ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি নাগরিক খিজির আদনানের মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) জাতিসংঘের এই আহবানকে সাধুবাদ জানায় ফিলিস্তিন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
হামাস মুখপাত্র জিহাদ ত্বহা এক বিবৃতিতে বলেন, হামাস ফ্যাসিবাদী দখলদার ইসরাইলী সরকারের যেকোনো তদন্তকে পক্ষপাতী ও অন্যায্য মনে করে। কেননা তারা নির্দ্বিধায় আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ক্রমাগত ফিলিস্তিনের পবিত্রতা লঙ্ঘন, ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন ও তাদের অধিকার খর্ব করে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কেননা ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক কারাবন্দী আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি পুরো বিশ্বের ন্যায় তিনিও বুঝতে পেরেছেন। আর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার আহবান জানিয়েছেন।
এছাড়া ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির কারাগারে প্রয়াত খিজির আদনানের মতো মানবেতর বন্দী জীবন কাটানো নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের তুমুল মারধর ও হত্যার লক্ষ্যবস্তু বানানোর যে ইহুদিবাদী জেল নীতি রয়েছে, অবিলম্বে তা বন্ধের জন্যও জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করে এই দলটি। একই সাথে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অপরাধ মোকাবিলায় সকল ফিলিস্তিনিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানায় তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ মে) ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কারাগারে আটক বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি নাগরিক খিজির আদনানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জানায়।
সংস্থাটির মুখপাত্র পিটার স্ট্যানো বলেছিলেন, যদিও খিজির আদনানের সাথে সন্ত্রাসী সংগঠন ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তবুও ইইউ তার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহবান জানাচ্ছে। কেননা বিশ্বের সকল দেশই কারাবন্দীদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
যেহেতু কারাগারে অনশনরত বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি নাগরিক খিজির আদনানের মৃত্যু ইহুদিবাদী ইসরাইলের কারা নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে আর তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনেরও শামিল, তাই সকল দেশের ন্যায় কারাবন্দীদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই আমরা তার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহবান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, খিজির আদনান হলেন ফিলিস্তিনের একজন নাগরিক যাকে কোনো ধরণের অভিযোগ ও মামলা ছাড়াই ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সন্ত্রাসী প্রশাসন কারাগারে আটক রেখেছিলো।
কোনো অপরাধ ও মামলা ছাড়াই গ্রেফতারের প্রতিবাদে কারাগারে অনশনরত শুরু করেছিলেন তিনি। শাহাদাতের আগ পর্যন্ত ৮৬ দিন অনশনরত অবস্থায় ছিলেন তিনি।
৯ সন্তানের জনক ৪৫ বছর বয়সী এই ফিলিস্তিনি নাগরিক ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনের জেনিন শহরের একজন বাসিন্দা।
সম্প্রতি কোনো মামলা ও অভিযোগ আরোপ করা ব্যতীতই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অবৈধ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে কারাগারেই অনশন শুরু করেছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে মোট ১৩ বার গ্রেফতার হতে হয়েছে। ১৩ দফায় মোট ৮ বছর জেল খেটেছিলেন তিনি। এরমধ্যে ৫ বার অনশনও করেছিলেন তিনি।
তার ১ম অনশনটি ছিলো ২৫ দিনের, ২য়টি ৬৭ দিনের, ৩য়টি ৫৮ দিনের। আর ২০১৮ সালে যখন ৪র্থ বারের মতো অনশন শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘ হয়েছিলো ৫৪ দিন পর্যন্ত। আর ২০২১ সালে ৫ম বারের মতো শুরু করলে তা স্থায়ী হয় ২৫ দিন পর্যন্ত।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











