ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে। হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজ্বীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ্ব অফিসে আয়োজিত সরকারি মাধ্যমের হজ্ব গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু নিবন্ধন বা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজ্বীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ্ব ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত।
তিনি বলেন, বিগত হজ্বের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি রুটিন কাজ। হাজ্বীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ্ব ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদি হজ্ব মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি হজ্ব মন্ত্রী বাংলাদেশের হজ্ব ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজ্বীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং নারী হাজ্বীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজ্বীর লাগেজ হারায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পবিত্র হজ্ব পালনে বাংলাদেশি হাজ্বীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজ্বীদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ্বে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ্ব ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পর এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজ্বযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন। মন্ত্রী নিজ উদ্যোগে টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই যাত্রীদের নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দুই হজ্বযাত্রীকে নিরাপদে হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।












