ঋণখেলাপি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড় দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তার মালিকানাধীন সচল কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া যায় না।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরবর্তী তিন মাসে আরও ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়ে জুন শেষে তা ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
হান্নান মাসউদ বলেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। গ্রুপটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন হান্নান মাসউদ।
তিনি অভিযোগ করেন, ঋণখেলাপি একটি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে অন্য ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে কি না এবং এতে বিদেশি ঋণদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন কি না, তা জানতে চান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে এসএস পাওয়ার-১-এর ক্ষেত্রে ২৭কক(৩) ধারার বিধান থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংকের অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ছাড় এবং এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।
হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন ভঙ্গ করে কাউকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আইনের মধ্যে ঋণ পুনঃতফসিল বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলে যোগ্য কোম্পানি সেই সুবিধা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার হতে পারে। কিন্তু একটি কোম্পানি আলাদা আইনি সত্তা। একজন ব্যক্তির অপরাধের কারণে এমন কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া যায় না, যার সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান, ঋণের দায় ও দেশের অর্থনীতি জড়িত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “ইমোশনের ওপর অর্থনীতি চলে না, আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে।”
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এস আলম গ্রুপের ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঋণের হিসাব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে। তবে এস আলম গ্রুপ এর আগে দাবি করেছে, ওই হিসাবে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণও যুক্ত করা হয়েছে।












