spot_img
spot_img

নওগাঁয় হিজাব পরায় ছাত্রীদের পেটালেন শিক্ষিকা আমোদিনি পাল

নওগাঁর মহাদেবপুরে হিজাব পরে স্কুলে আসার অপরাধে মাধ্যমিক স্কুল ছাত্রীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে শিক্ষিকা আমোদিনি পালের বিরুদ্ধে। পিটুনি খেয়ে ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে বাড়িতে চলে যায়।

বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাউল বারবারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই স্কুলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে না পেয়ে তারা স্কুলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

খবর পেয়ে থানা পুলিশের দুটি ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন অভিযোগ করে, বুধবার দুপুরে জাতীয় সংগীতের পর লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনি পাল কেন হিজাব পরে স্কুলে এসেছে এ কথা জিজ্ঞেস করে ইউক্যালিপটাসগাছের ডাল দিয়ে তাদের প্রহার করেন। তিনি ছাত্রীদের হিজাব খুলে ফেলার জন্য টানাটানি করেন। তিনি হুমকি দেন, কাল থেকে যদি হিজাব ও মাস্ক পরে আসো তাহলে পিটিয়ে তোমাদের পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে।

সাদিয়া জানায়, লাইনের কয়েকজন ছাত্রীকে মারতে মারতে তার কাছে এসে তাকে মারতে থাকলে লাঠি ভেঙে যায়। অন্যদের মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি, সুমাইয়া, তিথি, লাকি, নবম শ্রেণির মোনাসহ কয়েকজন ছাত্রীকে পেটানো হয়।

এক পর্যায়ে আমোদিনি পাল ছাত্রীদের মারধরের জন্য স্কুলের অপর শিক্ষক বদিউল আলমকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে বদিউল আলমও তাদের প্রহার করেন বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।

অভিভাবকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা স্কুল ঘেরাও করেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষিকা এদিন স্কুলে আসেননি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা আমোদিনি পালের বিচার দাবি করেন অভিভাবকরা।

অভিযুক্ত অপর শিক্ষক বদিউল আলম জানান, হিজাব না পরায় ছাত্রীদের শিক্ষিকা আমোদিনি পাল মারধর করেছেন। তিনি নিজে কাউকে মারেননি বলেও দাবি করেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ