ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের তীর্থস্থান বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই, তাহলে দেখব যে, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঘোষণার সময়, ভাষা আন্দোলনসহ সবকিছুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে “বঙ্গমাতা : এ প্যারাগন অব উইমেন লিডারশিপ অ্যান্ড ন্যাশন-বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের পতন, তারপর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৫ আগস্টের ঘটনা—যখন সংবিধান লঙ্ঘন করে আইয়ুব খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মিলিটারি শাসন কায়েম করা হয়, তখন সেই মিলিটারি ডিক্টেটরের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কথা বলেছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর জিয়াউর রহমানের পতনের পর উত্থান হলো আরেক মেজর জেনারেল এরশাদের। তার বিরুদ্ধেও হলো আন্দোলন। এ আন্দোলনেরও শুরু কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। শুধু তা-ই নয়, ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি ঠেকাতে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটাও হয় এখান থেকেই।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাসবাদ, বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালান, গ্রেনেড হামলাসহ নানা অপকর্মের ফলে বাংলাদেশের মানুষকে যেভাবে ডিফ্লেইট করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেও এখান থেকে প্রতিবাদ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে যখন ইমারজেন্সি আসে, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার পর তাদের সময় ছিল তিন মাস। কিন্তু, তারা ক্ষমতা থেকে সরে যাচ্ছিল না। তখনও সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাসের প্রতিটি পরতে বাংলাদেশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর আমরা সরকারে এসে জাতির পিতার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও স্বল্পোন্নত দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনে করি, এ সবকিছু অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আ,র আমার বাবা, আমি, কামাল, কামালের স্ত্রীসহ পরিবারের আমরা প্রায় সবাই এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলাম। সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমি সবসময় গর্ববোধ করি।










