spot_img

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হচ্ছে আজ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জেদ্দায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র।

আমেরিকা ও ইরানের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। এ যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নৌপরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শক্তিগুলো পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগী হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, ‘এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছে যে, আজ শুক্রবারই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লোহিত সাগর তীরের শহর জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের সফর আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান শুক্রবার সৌদি আরবে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে তুর্কি প্রেসিডেন্সের দপ্তর জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সফর ৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এবং ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এ সফর হচ্ছে। তবে এর গুরুত্ব কেবল তাৎক্ষণিক সংকট বা স্বল্পমেয়াদি বিবেচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর কৌশলগত তাৎপর্য আরও ব্যাপক।’

গত কয়েক মাস ধরেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি কৌশলগত জোট গঠনের আলোচনা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে তুরস্ক গাজ্জায় যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করেছিল। মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে ওই চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

সূত্র: বাসস

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ