তুরস্কের ইমাম হাতিপ তথা ইমাম-খতিব শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম দেশ ও উম্মাহর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।
গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের ত্রাবজোনে ওনদার ইমাম হাতিপ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২৩তম ইমাম হাতিপ সম্মেলনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরদোগান বলেন, “এই তরুণ প্রজন্ম তুরস্ক ও উম্মাহর নিশ্চয়তা হবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।”
ইমাম খতিব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে প্রতিরক্ষা শিল্প, আমলাতন্ত্র, একাডেমিয়া, রাজনীতি, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে তুরস্কের সেবা করছেন।
এরদোগান বলেন, ইমাম খতিব শিক্ষার্থীদের সামনে থাকা ‘কৃত্রিম বাধা’ সরিয়ে দেওয়ার পর তারা কী অর্জন করতে সক্ষম, সামরিক একাডেমিগুলোর সাম্প্রতিক সমাপনী অনুষ্ঠানেও তার প্রমাণ দেখা গেছে।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পরীক্ষাগুলোতেও ইমাম খতিব স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাফল্য দেখাচ্ছে। এসব অর্জনকে তিনি নিষেধাজ্ঞা ও ‘অভিভাবকত্বমূলক শৃঙ্খল’ থেকে মুক্ত হয়ে তুরস্কের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, “কেউ যে স্কুল থেকেই পাস করুক না কেন, সচেতন, আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং জাতীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রতি অনুগত একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে দেখে এ দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আমাদের দেশ ও ভবিষ্যতের জন্য গভীর আনন্দ অনুভব করি।”
ইমাম খতিব স্কুল প্রতিষ্ঠা, টিকিয়ে রাখা ও শক্তিশালী করার দীর্ঘ ৭৫ বছরের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত অগ্রজদেরও স্মরণ করেন এরদোগান। বর্তমান প্রজন্মকে তিনি সেই সংগ্রামের ‘সৈনিক, বাহক ও পতাকাবাহী’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সফলতা কামনা করেন।
তুরস্কের জাতীয় সংগীতের কবি প্রয়াত মেহমেত আকিফ এরসয়ের ‘আসিমের প্রজন্ম’-সংক্রান্ত পঙ্ক্তি স্মরণ করে এরদোগান বলেন, সেই তরুণ প্রজন্মই তুরস্ক ও উম্মাহর নিশ্চয়তা হবে বলে তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।
একইসঙ্গে তিনি ইমাম খতিব সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরা যেখানেই পড়াশোনা করুক এবং যে মত, শিকড় বা সংস্কৃতিরই হোক না কেন, কোনো ধরনের বৈষম্য না করে তুরস্কের সব তরুণকে ভাইয়ের মতো কাছে টানতে হবে।
এরদোগান বলেন, তুরস্ক তার ৮ কোটি ৬০ লাখ নাগরিককে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটি দেশ। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এ ভূখণ্ডে বহু শতাব্দী ধরে ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে বসবাস অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমার রব যেন আপনাদের শ্রম বৃথা না করেন। সংগ্রাম ও সাধনার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেন।”












