ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্যানারে দেড়শর মতো উগ্রবাদী হিন্দু মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সামনে জড়ো হয়ে বাংলাদেশবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ছিন্নভিন্ন করে এবং ‘বাংলাদেশ মুর্দাবাদ’সহ বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশবিরোধী ও উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
মুম্বাইয়ের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিকাল ৫টার দিকে দেড়শর মতো উগ্রবাদী হিন্দু জঙ্গি হঠাৎ করেই বাংলাদেশ মিশনের সামনে হাজির হয়। এ সময় তারা সহিংস বিক্ষোভ শুরু করলে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ঠেকাতে তৎপর হন। তারা বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশ মিশনের সামনে থেকে সরিয়ে দেন। ফলে তারা বাংলাদেশ মিশনের কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। মিশনের কর্মকর্তারা নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে দিল্লিসহ ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি মিশনে হামলার পাশাপাশি একটি ভিসা সেন্টার জ্বালিয়ে দিয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলো ঘিরে উগ্র হিন্দুদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশটির সরকারের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে।
সবশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশের নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপের পর হিন্দু জঙ্গিরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এত দিন তারা সহিংস বিক্ষোভের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে। এই প্রথমবারের মতো তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় হাত দিল।
ভারতীয়দের জন্য পর্যটক ভিসা বন্ধ
নিরাপত্তা ইস্যু বিবেচনায় নিয়ে গতকাল ভারতীয়দের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশের কলকাতা মিশন। এর আগে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগড়তলায় অবস্থিত উপ-হাইকমিশন থেকে তাদের পর্যটন ভিসা দেওয়া আগেই বন্ধ করা হয়েছে। শুধু কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে এই পরিষেবা চালু ছিল। এখন সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হলো। ঢাকা ও কলকাতার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যু বিবেচনা করে ভারতীয়দের জন্য ভিসা-সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতীয়দের জন্য কর্মসূত্রে এবং ব্যাবসায়িক কাজে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা সার্ভিস এখনো চালু রাখা হয়েছে। কারণ এ দুই ক্যাটাগরির ভিসা বহু স্তরের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে।
ওই কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত লাগাতারভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে একটি অরাজ পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা হতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভারতীয়দের জন্য ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।











