আমেরিকা-ইসরাইল জোটের লাগাতার চাপ, হুমকি ও সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেও ইরান নিজের অবস্থান থেকে সরেনি। এমন পরিস্থিতিতে সুর নরম করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ ও হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। এর আগে একই দিনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, সমঝোতা না হলে রাতেই ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে কথোপকথনের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি পূর্ণাঙ্গ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব এসেছে এবং আগের বড় ধরনের মতভেদের প্রায় সবকটিতেই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানো এবং একই মেয়াদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। শাহবাজ শরিফ বলেছেন, কূটনৈতিক তৎপরতা স্থিরভাবে, শক্তভাবে ও কার্যকরভাবে এগোচ্ছে। ইসলামাবাদ একই সময়ের জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আলোচনার পথ আরও সুগম হয়।
তবে তেহরান এখনো নিজের শর্তে অটল রয়েছে। রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, স্থায়ী শান্তি আলোচনায় যেতে হলে আগে আমেরিকার হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, ভবিষ্যতে আর হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, তারা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একদিকে ট্রাম্প আগের হুমকির সুর থেকে সরে এসে বিরতির কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরান নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে আমেরিকার ওপর কূটনৈতিক চাপ ধরে রেখেছে। ফলে তাৎক্ষণিক বড় হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও, চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো সম্পন্ন হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র : রয়টার্স











