spot_img
spot_img

ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের অপমানজনক পরাজয় হয়েছে: রাশিয়া

ইরানে চূড়ান্ত অপমানজনক পরাজয় বরণ করেছে আমেরিকা ও ইসরাইল— এমনটাই মন্তব্য করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালানোর পর আমেরিকা ও ইসরাইলের ‘চূড়ান্ত অপমানজনক পরাজয়’ ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ‘একতরফা আগ্রাসী ও উসকানিবিহীন হামলা’ চালায়, যার ফলে আজ তাদের চূড়ান্ত অপমানজনক পরাজয় ঘটেছে।

রাশিয়ার স্পুৎনিক রেডিওতে দেওয়া বক্তব্যে জাখারোভা বলেন, ‘আমাদের দেশ শুরু থেকেই, প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিল— এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই, কিংবা এভাবে অঞ্চলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি এমন একসময়ে এই মন্তব্য করলেন যার কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকা ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

জাখারোভা আরও বলেন, ‘বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ অবিলম্বে শুরু করা জরুরি, যা অবশ্যই আলোচনার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে হবে এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান বাস্তবিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া। একই সঙ্গে গমের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ও সার উৎপাদনেও অন্যতম শীর্ষ দেশ এটি।

এক সরকারি বৈঠকে মিশুস্তিন বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পের উন্নতি ও বাজেটে অতিরিক্ত রাজস্ব যোগ করার সুযোগ তৈরি করছে।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে যেসব পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বা হতে পারে, সেসব পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, বিশেষ করে খাদ্য পণ্য।’

তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি ইউরিয়া, সালফার ও হিলিয়ামের মতো পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে উল্লেখ করে রুশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পণ্যেরও বড় উৎপাদক রাশিয়া।’ তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এ সময় পেট্রল ও নাইট্রোজেন সার রপ্তানিতে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করে মিশুস্তিন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ