ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও নাগরিকঅধিকার কেড়ে নিয়েছে। নীতি ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিদেশীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে। বিদেশীদের প্রেসক্রিপশনে দেশ চালাচ্ছে। দেশের মানুষ নানা সঙ্কট ভোগকরছে। নিত্যপণ্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলেছে।
আজ (৮ জুলাই) শনিবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাতিল সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন (চজ) পদ্ধতির প্রবর্তন বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরনে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, রাতের ভোটের অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনীতির মাঠক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সঙ্কট আরো ঘণিভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ইতিহাস নেই। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক আছে, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে আয়োজনের পাঁয়তারা চলছে। মানুষকে ধোকাদিয়ে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হলে দেশবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আলোচনা সভায় ১৫ জুলাই শনিবার রাজধানীর ঢাকায় তে সমাবেশ,১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে থানায় থানায় তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন, সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী সকল জেলা ও মহানগরে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চরমোনাই পীর।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, দেশকে বিদেশীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। ফলে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর সুযোগ পাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গণমানুষের একটি সংগঠন, জনগণের ভালবাসানিয়ে দেশে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতিতে আদর্শিক ও গুণগত পরিবর্ত আনতে চায়।
তিনি বলেন, বিদ্যামান সঙ্কট নিরসনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। জাতীয় সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক সংকট ঘনিভূত হচ্ছে। যা দেশের জনগণের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলাম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ও কৃষিবিদ আফতাবউদ্দিন, কেএম আতিকুর রহমান প্রমুখ।










