spot_img
spot_img

ছোট দেশগুলোকে ‘সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্র’ হিসেবে বিশ্বশান্তিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান কাতারের

আকারে ছোট হলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা দেশগুলোকে ‘সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব দেশকে সম্মিলিত, সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অক্সফোর্ড ইউনিয়নে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিশেষ শ্রেণির দেশের জন্য ভিন্ন একটি পরিচিতি প্রস্তাব করতে চাই। এসব দেশ ক্ষিপ্র, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য। তারা নিজেদের ক্ষুদ্র আকারকেই শক্তিতে পরিণত করেছে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমি তাদের ‘থ্রাইভিং স্টেটস’ বা ‘সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্র’ নামে অভিহিত করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রস্তাব হলো, বৈশ্বিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হয়ে ওঠা এসব সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্র এখন আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে। তবে এ ভূমিকা একক উদ্যোগের মাধ্যমে নয়, বরং সম্মিলিত, সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পালন করতে হবে।

ছোট দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরে শেখ মুহাম্মদ বলেন, ছোট রাষ্ট্রগুলো ক্রমেই এমন সংঘাতের প্রথম শিকারে পরিণত হচ্ছে, যেসব সংঘাতের জন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়।

তিনি বলেন, সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্রগুলো একা এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান করতে পারে না, আবার বৃহৎ শক্তিগুলোর জায়গাও নিতে পারে না। তবে নিজেদের দক্ষতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক একত্রিত করার মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ধারাবাহিক ভিত্তি গড়ে তুলতে এবং তা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।”

স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের স্থিতিশীলতার দায়িত্ব অন্যের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। নিষ্ক্রিয়তার কাছেও আত্মসমর্পণ করা উচিত নয়। ইতিহাস নিষ্ক্রিয় দর্শকদের বিস্মৃতির অসংখ্য উদাহরণে পরিপূর্ণ। ইতিহাস কেবল তাদেরই স্মরণ করে, যারা তা গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের সমাধান খুঁজতে চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে শেখ মুহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খুঁজে বের করতে দোহা আমেরিকার প্রশাসনের এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করেছে, যাঁদের এ বিষয়ে ‘আন্তরিক সদিচ্ছা’ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তেহরানের কয়েকজন বিচক্ষণ ব্যক্তির ভূমিকার কারণেও আমরা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে ঠেকাতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যা ঘটেছে, তা ভবিষ্যতে তাদের নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তাদের উদ্দেশ্যে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা কখনোই নিখুঁত কোনো শান্তিচুক্তি পাব না। কিন্তু নিখুঁত চুক্তির অপেক্ষায় বসে থেকে একটি ভালো চুক্তি করার সুযোগ এড়িয়ে যেতে পারি না।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গতি সম্পর্কে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগের তুলনায় এখন তৎপরতা কিছুটা কম।” তবে তিনি জানান, “আমাদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বন্ধ হয়নি, ভবিষ্যতেও বন্ধ হবে না।

সূত্র : আনাদোলু এজন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ