পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ এবং জনসেবা কার্যক্রম উন্নত করতে বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এ জন্য দেশে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত। সুশাসন নিশ্চিত করতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, লাহোর, করাচি, কোয়েটা ও পেশোয়ারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতেই প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা সহজলভ্য করতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ছোট ছোট ইউনিটের হাতে হস্তান্তর করা প্রয়োজন।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রদেশগুলো একীভূত করে দেশটিতে ‘ওয়ান ইউনিট’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের কথা উল্লেখ করে খাজা আসিফ বলেন, প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশটি প্রদেশের সংখ্যা আগের প্রায় ৮টি থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৩২টিতে উন্নীত করেছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রদেশগুলোর জন্য বরাদ্দ করা অর্থ অনেক সময় প্রাদেশিক সরকারগুলোর ইচ্ছাধীন থেকে যায়। অথচ এসব অর্থের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী হওয়া উচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রাদেশিক সরকারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জনগণের প্রয়োজন কার্যকরভাবে পূরণ করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।
খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উপলব্ধি করা উচিত, ক্ষমতা জনগণের আমানত। এটি নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, ১২টি প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা উচিত। তবে এসব ইউনিট গঠনের ভিত্তি ভাষা, জাতিগত পরিচয় কিংবা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হওয়া উচিত নয়।
খাজা আসিফের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়নের যে দাবি রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে নতুন প্রদেশ গঠন কিংবা পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রাদেশিক সীমানা পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। ফলে এ প্রস্তাব রাজনৈতিক দল ও প্রাদেশিক অংশীজনদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
সূত্র : দুনিয়া নিউজ











