ঈদুল আজহা উপলক্ষে খেলাফত আন্দোলনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীবৃন্দ, দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি।
আজ (৯ জুলাই) শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই ঈদ শুভেচ্ছা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মানুষের কল্যাণে ও আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর ন্যায় সম্ভাব্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার ও সর্বস্ব বিলীন করে দেয়ার চেতনা জাগ্রত করার শিক্ষা দেয় ঈদুল আজহা। এবারের ঈদুল আজহা এমন সময় আমাদের সামনে এসেছে যখন ভারতের মুসলিমরা আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননার প্রতিবাদ করায় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কতৃক আপন ভুমি থেকে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ বাসভুমিতে ফিরে যাওয়ার দৃশ্যমান কোন সম্ভাবনা নেই। মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা এবং নিজ ভুমিতে ফিলিস্তিনি মুসলিমরা ইসরাঈলি আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অবরোধ-পাল্টা অবরোধে সারা পৃথিবী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। এমতাবস্থায় ইবরাহীমি চেতনায় সারা পৃথিবীর মুসলিমদের জেগে উঠতে হবে এবং মানবসৃষ্ট সকল বিপর্যয়, জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, দেশবাসী এবারের ঈদুল আজহা এমন অবস্থায় পালন করতে যাচ্ছেন যখন বন্যায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোণা সহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জনগণ মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ভয়াবহ বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ঘরে জমানো সারা বছরের খোরাকির ফসল, দোকানপাট, মাছের খামার ভেসে গেছে। খোলা আকাশের নিচে মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে দ্বীনদার জনগণ তাদের দিকে স্বত:স্ফুর্তভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ঈদুল আজহার কুরবানীর গোশত বিতরণেও দ্বীনদার জনগণ তাদেরকে অগ্রাধিকার দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতৃদ্বয়। ঈদুল আজহার শিক্ষা ত্যাগ ও কুরবানীর প্রেরণায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের শিক্ষাকে বাস্তবায়ন তথা খেলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইনসাফ, শান্তি ও সমৃদ্ধিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তাঁরা।










