নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলে ফলাফল যাই হোক, বিএনপি তা মেনে নিবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
গত এক মাস যাবত নির্বাচন কমিশনে বিএনপি যেসব অভিযোগ করেছিল, সেগুলোর সমাধান পেয়েছেন কীনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমরা সমাধান পেয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে সেটা বিলম্বিত হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো সমাধান পাইনি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, যেকোনো দলের দিক থেকেই যে অভিযোগ কে করছে, সেটা সত্য কিনা? সেটা যেন নির্বাচন কমিশন তাদের পক্ষে আমাদের আগে অবহিত করেন এবং সে অনুযায়ী উনারা ভূমিকা পালন করবে, যেখানে প্রয়োজন কার্য পদক্ষেপ নিবে।
নিশ্চিত পরাজয় জেনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা— এমন অভিযোগ করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, সারা দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় জনগণের সতস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা সবকিছু মিলিয়ে এটি আজ স্পষ্ট যে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজয় সৃষ্টি হয়েছে তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে।
মাহদী আমিন বলেন, জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশল তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জায়।
এই বিষয়ে খোদ জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের আসন ঢাকা ১৫ তে তার জন্য দাড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন সে ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে তারা সে প্রচারণাতেই সাধারণ মানুষকে এমনকি তরুণ সমাজকে অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে তারাই যদি ভোটের মাঠে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা ছড়িয়ে দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায় তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কি হতে পারে? আচরণবিধি ২০২৫-এর বিধি ২৭ অনুযায়ী এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।











