আফগানিস্তানে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া, আফিম চাষ ও মাদক পাচার বন্ধ হওয়া এবং একটি কার্যকর সরকার থাকায় জাতিসংঘে নিজেদের প্রতিনিধি রাখার অধিকার ইমারাতে ইসলামিয়ার রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মাওলানা আবদুস সালাম হানাফী।
তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে একটি কার্যকর সরকার রয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মাদক নির্মূল করা হয়েছে। অন্যদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে না। তাই জাতিসংঘে একজন প্রতিনিধি থাকা আফগান জনগণের অনস্বীকার্য অধিকার। এটি আমাদের অধিকার।”
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) টোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আফগানিস্তানে নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে মাওলানা আবদুস সালাম হানাফি বলেন, “দেশের বাইরে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, এখানে নারীরা কাজ করেন না। আপনারা জানেন, আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে হাজার হাজার বোন চিকিৎসক ও নার্স হিসেবে কাজ করছেন। শিক্ষা খাতে হাজার হাজার নারী শিক্ষক পাঠদান করছেন। পাশাপাশি ইসলামি হিজাব মেনে পাসপোর্ট অফিস, জাতীয় পরিচয়পত্র বিভাগ, পুলিশসহ আরও বিভিন্ন বিভাগেও নারীরা কাজ করছেন।”
নারী অধিকারকর্মী তাফসির সিয়াহপোশ বলেন, “কোনো অবস্থাতেই আমরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করতে পারি না। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবনযাপন করছি। আমরা আফগান নারীরা ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতি এই বিষয়টির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেছিলেন, সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জাতিসংঘে আফগানিস্তানের আসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতিসংঘের নিজের নয়, বরং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে আফগানিস্তানের আসন ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো দেশ ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দেয়নি। এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে কোনো প্রক্রিয়াও চলমান নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইওয়ান্দ জুররাত বলেন, “আমেরিকার নেতৃত্বে জাতিসংঘে প্রভাবশালী দেশগুলো চাপ প্রয়োগ করেছে। এর ফলে এখনো ইমারাতে ইসলামিয়ার একজন প্রতিনিধির কাছে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের আসন হস্তান্তর করা হয়নি।”
সূত্র: তোলো নিউজ










