সোমবার | ১৫ ডিসেম্বর | ২০২৫

কারাবন্দী আলেমদের মুক্তি কামনায় হেফাজতের দুআ ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

পবিত্র মাহে রমযানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও কারাবন্দী আলেম উলামাদের মুক্তি কামনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের দু’আ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদরাসার মিলনায়তনে এ দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী।

আলোচনায় তিনি বলেন, কুরআন নাযিলের মাস পবিত্র মাহে রমযানে কুরআনের শিক্ষাকে সকলের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা আলেম উলামা ও ইমামদেরদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই প্রত্যেক আলেমের উচিৎ, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির ইস্তিগফার পাঠ করার জন্য মুসল্লীদেরকে উৎসাহিত করা। নিজেদের মসজিদ এলাকায় দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া। সকল প্রকার বেহায়াপনা এবং অশ্লীল প্রদর্শনী বন্ধ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। খোদাদ্রোহী অপশক্তির বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতার ঈমান শানিত করা। নিজেদের মুসল্লিদের সম্পদের যাকাত প্রাপ্যদের মাঝে বিতরণ করার ব্যবস্থা নেওয়া। ২০ রাকাত তারাবীহের বিরুদ্ধে যাবতীয় প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তিকর ষড়যন্ত্র থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করা। মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার জন্য মুসল্লীদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।

প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, মাহে রমাযান আমাদের মাঝে এসেছে তাকওয়া ও খোদাভীতির আহবান নিয়ে।তাকওয়ার মূল কথা সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রন, আল্লাহর ভয়ে গুনাহ ও পাপাচার এবং গর্হিত ও অশোভন আচরণ থেকে বিরত থাকা। এটি এমন এক বিষয়, যা মানবের পার্থিব শান্তি ও লৌকিক মুক্তির জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, রমযান মাস মুসলমানদের জন্য নিজেদের পরকালের মুক্তি এবং দুনিয়ার জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সূবর্ণ সুযোগ। এ মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ রহমত স্বরুপ এবং এর ফজিলত অপরিসীম। সবাইকে ব্যাক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রমজান মাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সংযম, ধৈর্য্যশীল ও সহমর্মি হবার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই আমরা উভয় জাহানে সফল হতে পারবো।

হেফাজত মহাসচিব কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে বলেন, এপর্যন্ত যে সকল বন্দি মুক্তি পেয়েছেন এবং সে সকল বন্দীদের মুক্তির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলের প্রতি আমরা আন্তরিক শুকরিয়া ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখনো যে সকল ওলামায়ে কেরাম, হেফাজতের নেতা-কর্মী ও ইসলাম প্রিয় জনতা বন্দী রয়েছেন, তাদের সকলের দ্রুত মুক্তি দানের জন্য সরকারের নিকট জোরালো দাবী জানাচ্ছি। তাদের এই দীর্ঘ বন্দিত্বের কারনে তাদের পরিবার এবং কারো কারো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। তাই হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালের যত মামলা হয়েছে,পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকল মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হিজাব পরে স্কুলে আসায় কমপক্ষে ২০ ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমোদিনী পাল। এর আগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাটের শের-ই-বাংলা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এদেশের মুসলমানদেরকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, এদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এদেশে কিভাবে বোরকা ও হিজাব পরিধানে বাধা দেওয়া হয়? বোরকা-হিজাব ইসলামের অপরিহার্য বিধান। তাই স্বভাবতই মুসলমানরা বোরকা-হিজাব পরিধান করবে। অতএব নওগাঁ এবং সেনবাগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা শিব্বির আহমাদ, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মাওলানা কিফায়াতুল্লাহ আযহারী, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা মাহবুবুল আলম, মাওলানা মুবিনুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াহয়া, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আল আমিন, মাওলানা সুলতান মাহমুদ, মাওলানা গোলাম মাওলা, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আফসার মাহমুদ প্রমূখ।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

spot_img

এই বিভাগের

spot_img