ইনসাফ | নাহিয়ান হাসান
২ মাসের মাথায় মৃত্যু বরণ করলেন শূকরের হৃৎপিণ্ড স্থাপনকৃত বিশ্বের সর্বপ্রথম ব্যক্তি ডেভিড ব্যানেট।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড স্টেটের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
ইউনিভার্সিটি ম্যারিল্যান্ড মেডিকেল সিস্টেমের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানানো হয় ব্যানেটের মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের বিশেষজ্ঞরা এখনো মৃত ব্যানেটকে নিয়ে শূকরের হৃৎপিণ্ডের সেই যুগান্তকারী ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়ে সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে মেডিকেলটির কার্ডিয়াক জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের ভিডিও বার্তা থেকে জানা যায়, সফলভাবে শূকরের হৃৎপিণ্ড স্থাপনের পর ডেভিড ব্যানেট ২ মাস জীবিত থাকলেও তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে থেকে ব্যানেটের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে অবনতি ঘটতে থাকে।
ভিডিও বার্তার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, তার ইনফেকশন ও ইমিউনোসাপ্রেশনের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছিলাম। যখন আমরা বুঝতে পারি, ব্যানেটকে বাঁচিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়। তখন চরম যন্ত্রণা লাঘবে তাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া হয়। মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে সে তার পরিবারের সাথে কথাবার্তা বলার মতো অবস্থায় ফিরে এসেছিলো।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রাণীর হৃৎপিণ্ড সফলভাবে মানব দেহে স্থাপনের পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছে। এমনকি পৃথিবীর সর্বপ্রথম প্রাণির হৃৎপিণ্ডের অধিকারী ডেভিড ব্যানেট (৫৭) ফিজিক্যাল থেরাপি নেওয়ার মতোও সক্ষম হয়ে উঠেছিলেন!
উল্লেখ্য, হার্টের জটিল সমস্যার কারণে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডেভিড ব্যানেটকে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড স্টেটের একটি হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করা হয়।
যেহেতু আগুনে দগ্ধ হওয়া ব্যক্তির চামড়ার চিকিৎসায় শূকরের চামড়া প্রতিস্থাপনে সফলতা পাওয়া গিয়েছে এবং শূকরের ভিতরকার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাছাকাছি, তাই ব্যানেটের শরীর ও স্বাস্থ্যের শোচনীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞগণ তার শরীরকে মানব হৃৎপিণ্ড স্থাপনের অযোগ্য বলে ঘোষণা দিলে শূকরের হৃৎপিণ্ড স্থাপনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
ভার্জিনিয়া ভিত্তিক জীববিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োটেক ফার্ম রিভাইভিকোর এবিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ধাপে ধাপে একটি শূকরের পালের জিন পরিবর্তন করে তারা শূকরগুলোকে মানব সহায়ক করে গড়ে তুলে।
শূকরের যে ৩টি জিন মানবদেহের সাথে সাংঘর্ষিক অর্থাৎ যার ফলে মানবদেহ শূকরের অঙ্গ গ্রহণ করতে সমর্থ হয় না তা শূকরগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং মানবদেহ মনুষ্য অঙ্গ গ্রহণে যে ৬টি জিনের চাহিদা করে থাকে তা তাতে স্থাপন করা হয়। সর্বমোট ১০টি জেনেটিক পরিবর্তন সাধন করা হয় ওই শূকরগুলোর দেহে। সেগুলোর মধ্য থেকেই একটির হৃৎপিণ্ড পরবর্তীতে স্থাপন করা হয়েছিলো ডেভিড ব্যানেটের শরীরে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি ও অসাধ্য সাধন করেও শেষমেশ অমোঘ সত্য মৃত্যু থেকে ডেভিড ব্যানেটকে বাঁচাতে পারেননি বিখ্যাত কার্ডিয়াক ও বায়োটেক বিশেষজ্ঞগণ।
সূত্র: আরব নিউজ।











