ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহজাহানপুরে গরু বহনের সন্দেহে পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে একজন মুসলিম ট্রাকচালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও পাথর ছুঁড়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) শাহজাহানপুরের কালান থানার বাদাউন রোডের পাটনা দেবকালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কানওয়ার যাত্রা মিছিলের সময় কানওয়ারিয়ারা গরু বহনের সন্দেহে একটি দুর্গন্ধযুক্ত ট্রাক থামিয়ে দেয়। গাড়িটি পরীক্ষা করার পর তারা পশুর চামড়া খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করে। কোনও তদন্ত ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে চামড়াগুলিকে গরুর দেহাবশেষ ভেবে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা চালকের উপর নৃশংস আক্রমণ চালায়।
আরও জানা যায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও তারা তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেনি এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদেরকে থামানের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরিবর্তে, পুলিশ ভুক্তভোগীকে হেফাজতে নেয় এবং উত্তেজিত জনতা তাদের উপস্থিতিতেই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং সম্প্রদায়ের নেতারা পুলিশের পদক্ষেপ না নেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানান, ভারতে গো-রক্ষা আইনের অজুহাতে প্রায়ই মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
একজন স্থানীয় মুসলিম নেতা বলেছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি বিরক্তিকর প্রবণতার অংশ যেখানে প্রমাণ ছাড়াই মুসলমানদের হয়রানি করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া হয়। অন্ধ ঘৃণা এবং সন্দেহের কারণে ট্রাক চালক তার জীবন হারিয়েছেন। পুলিশকে তাদের নীরবতার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা পুলিশকে কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি কিন্তু চালককে আক্রমণ করার সময় তারা কিছুই করেনি। এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা উগ্র জনতাকে আইন ভাঙতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করে।
সূত্র: কেএমসি











