spot_img
spot_imgspot_img

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক ও বৈরী আচরণের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমিরাতের আচরণ নিয়ে দেশটিকে একাধিকবার সতর্ক করেছে আলজেরিয়া। এসব আচরণকে তারা দুঃখজনক ও অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে। তবে ঠিক কোন কর্মকাণ্ডের কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই দিন আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য ও পারস্পরিক উত্তেজনার কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিম সাহারা, সাহেল অঞ্চল এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে দুই দেশের নীতিগত মতপার্থক্যও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।

আলজেরিয়ার ঘোষণার পর আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলজেরিয়ার এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হবে বলে আশা করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

এদিকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক যুক্তিবোধ, যোগাযোগ এবং স্বার্থের বিষয়ে স্পষ্টতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। তিনি আলজেরিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যটি আলজেরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণার পরপরই সামনে আসে।

গারগাশ বলেন, সফল কূটনীতি গড়ে ওঠে স্পষ্ট অবস্থান, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং স্বার্থ ও মতপার্থক্য কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। অস্পষ্টতা কোনো নীতি নয় এবং শব্দের বাড়াবাড়ি দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ