যুদ্ধাপরাধের দায় এড়াতে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় আরও মার্কিন প্রাণ ও সম্পদ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকার অভিযোগে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিন্দা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, নেতানিয়াহু একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী, যার হাতে আরব, আমেরিকান ও ইরানিদের রক্ত লেগে আছে। বিচার এড়াতে তিনি নিজের জনগণের প্রতিও কোনো পরোয়া করেন না।
আরাঘচি আরও বলেন, একজন অধঃপতিত জুয়াড়ির মতো তিনি মরিয়া হয়ে আরও মার্কিন রক্ত ও সম্পদের বিনিময়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি মার্কিন সিনেটররাও বেরিয়ে আসতে চাইছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এবং এর পর গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও পর্যালোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল আভি গিল বলেন, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ইসরাইলি সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভাজন শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং এর ফলে প্রতিপক্ষরা সুযোগ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। গিল বলেন, এসব উদ্বেগ বিভিন্ন পর্যায়ে জানানো হয়েছিল। তবে ৭ অক্টোবরের হামলার মাত্রা সম্পর্কে কর্মকর্তারা নির্দিষ্টভাবে আগেই সতর্ক করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেননি।
৭ অক্টোবরের হামলার সকালে নেতানিয়াহুকে এ বিষয়ে অবহিত করা গিল আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে হওয়া আলোচনা ও সতর্কবার্তার পূর্ণ চিত্র ইসরাইলি জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, জনগণ যা জানে এবং প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু গিলের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার সাবেক সহযোগী তাকে সময়মতো ঘুম থেকে জাগাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং নিজের দায় অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি











