অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, ‘আয়নাঘর’ বলতে যে নির্যাতন কেন্দ্রগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অমানবিক ছিল। মাত্র তিন ফুট বাই এক ফুটের সেলে বন্দিদের হাঁটু মুড়ে বসতে হতো, যেখানে মাত্র দুই বিঘত জায়গায় টয়লেট ছিল। সেখানে দিনের পর দিন বন্দিদের অত্যাচার সহ্য করতে হতো।
তিনি একটি আয়নাঘরের বর্ণনা দিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এটাই আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর আয়নাঘর। গুম হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় এই অমানবিক পরিবেশে কাটিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো গুমের শিকার মানুষদের মুক্তি।’
আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয় উপদেষ্টা রাজধানীর তিনটি এলাকায় র্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত আয়নাঘর পরিদর্শনে যান। তাদের সঙ্গে ছিল কয়েকটি গণমাধ্যমও।
পরিদর্শন শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন মাহফুজ আলম। তিনি লেখেন, “আমরা সরকার গঠনের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় গুম কমিশন গঠন করেছি, যারা দিনরাত কাজ করে নৃশংসতার বিবরণগুলো ডকুমেন্ট করেছেন। ২১ দিনের মাথায় আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী কনভেনশনে সই করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসী হাসিনার নৃশংসতার কিছু নমুনা দেখবেন। আরও শত শত এমন আয়নাঘর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। এগুলোর প্রত্যেকটির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
মাহফুজ আলম জানান, গত ৬ মাস ধরে গুম কমিশন ভিক্টিমদের সাক্ষ্যগ্রহণ, তদন্ত এবং নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেছে। সে অনুসারে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে এবং বিচারের কাজ শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গণঅভ্যুত্থান সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। বাংলাদেশে যেন আর কখনও গুমের মতো মানবতাবিরোধী কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”











