জাতিসংঘের সাধারণ নিরাপত্তা পরিষদের গবেষণা-পর্যবেক্ষণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
রবিবার (১১ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে উপ তথ্যমন্ত্রী জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এবিষয়ে একটি বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ নিরাপত্তা পরিষদের গবেষণা-পর্যবেক্ষণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ১৪তম প্রতিবেদনে আমাদের দেশ ও সরকার সম্পর্কে যেসব তথ্য ও অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই।
এধরণের পক্ষপাত মূলক প্রতিবেদন গত ২০ বছরের আফগান বিরোধী প্রোপাগাণ্ডার ধারাবাহিকতা এবং স্বাধীন জনগণের সাথে প্রকাশ্য শত্রুতার নামান্তর।
প্রতিবেদনে আমাদের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিদ্রোহীদের সহোযোগিতা ও আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। আফগানকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে।উল্লেখ করা হয়েছে। তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারে থাকা নেতাদের মধ্যে কোন্দল, সম্পদ পাচার ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এসব ভিত্তিহীন তথ্য ও অভিযোগ প্রমাণ করে যে প্রতিবেদকরা হয়তো পলাতক আফগানদের তথ্যের ভিত্তিতে এমন প্রতিবেদন সাজিয়েছে। আর নাহয় তাদের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই। অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবেই প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে গুজব রটাচ্ছে। যেমনটি গত ২০ বছর যাবত আফগান বিরোধীরা বিদ্বেষ ও শত্রুতা বশত ধারাবাহিক ভাবে করে আসছিলো।
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। পাশাপাশি তাদের অব্যাহত নিষেধাজ্ঞা ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনকে কোনো দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার যে আন্তর্জাতিক নীতি রয়েছে তার বিরোধী বলেও মনে করে। জাতিসংঘকে দ্রুত সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং এমন পক্ষপাতী কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত হওয়ার আহবান জানাচ্ছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
আমরা আমাদের অঙ্গীকারে অটল আছি। গত ২ বছর যাবত আফগান ভূখণ্ড অন্যদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে না দিয়ে এবং সন্ত্রাসবাদ বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখে আমাদের সরকার তা প্রমাণও করেছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। তাদের বিদ্বেষমূলক এক তরফা প্রতিবেদন তাদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন কার্যক্রমের ব্যাপারে জনসাধারণের মনে সংশয় তৈরি করছে। শেষ করে দিচ্ছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার এক পাক্ষিক। তাদের সকল সিদ্ধান্ত এক তরফা। জাতিসংঘের এই অভিযোগগুলোও সঠিক নয়। ঐতিহ্যগতভাবেই আমরা আমাদের সকল সিদ্ধান্ত ইসলামী শরীয়তের বিজ্ঞজন, নীতি, সব পক্ষের মতামত ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে থাকি।
বিবৃতিতে, যেকোনো উদ্বেগ মোকাবেলায় ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: আল ইমারাহ











