২০২১ সালে ছুটি কাটাতে তুরস্কে এসে প্রথমবার আজান শুনেছিলেন ইউক্রেনের নাগরিক আনাস্তাসিয়া পড্রেজোভা। আজানের ধ্বনি তাকে মুগ্ধ করে এবং এরপর থেকেই ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ইউক্রেনে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কালেমায়ে শাহাদাহ পড়ে মুসলিম হন তিনি।
২০২১ সালে ছুটি শেষে ইউক্রেনে ফিরে গেলেও তুরস্কে পরিচিত এক তরুণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ফোনে যোগাযোগ রাখেন পড্রেজোভা। এই সম্পর্কের পাশাপাশি ইন্টারনেটে ইসলাম নিয়ে গবেষণা তার কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরে পড়াশোনা ও কাজের কারণে অন্য একটি শহরে চলে যান পড্রেজোভা। সেখানে কর্মস্থলে মুসলিম সহকর্মীদের সঙ্গে থাকার সময় তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তিনি। একই সঙ্গে রমজান মাসের ইফতারের পরিবেশও তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
ইফতারের আয়োজন কীভাবে পরিবারগুলোকে একত্র করে এবং সেখানে যে আন্তরিক ও উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, তা দেখে তার মনে ‘আমিও সেখানে থাকতে চাই’ এমন অনুভূতি তৈরি হয়েছিল বলে জানান পড্রেজোভা। এরপর তিনি ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করেন।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ইউক্রেনে যাওয়ার পর সেখানে সংঘাত শুরু হওয়া তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে পড্রেজোভা বলেন, তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়েছিল, এটি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির এবং আল্লাহ তাকে একটি বার্তা পাঠাচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করে।
ইউক্রেন থেকে চলে আসার পর হঠাৎ এক আরব ব্যক্তি তাকে বার্তা পাঠান। তার পরামর্শে বিশ্বাসসংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন পড্রেজোভা। এরপর তিনি জানান, তিনি অন্তর থেকে ইসলামে বিশ্বাস করেন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই কালেমায়ে শাহাদাহ পড়ে নিজেকে মুসলিম বলে ঘোষণা করেন তিনি।
সেই মুহূর্তকে তিনি ‘মনে হচ্ছিল, আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি’ বলে বর্ণনা করেন। পরে ভানে আয়োজিত এক ইহতিদা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তাকে জয়নব নাম দেওয়া হয়। ভান প্রদেশের মুফতীর কার্যালয় ওই ইহতিদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আনতালিয়ায় পর্যটন খাতে কাজ করার সময় আনাস্তাসিয়া পড্রেজোভার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানান এমরাহ জেনচ।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে পড্রেজোভার সঙ্গে ইসলাম নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছেন। পড্রেজোভার ইসলামের বিষয়ে কৌতূহল বোঝার চেষ্টা করার পাশাপাশি তাকে ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পড্রেজোভা ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
সূত্র : আকসিয়ন












