সোমালিয়া থেকে শিশু শরণার্থী হিসেবে লন্ডনের আসা সাগাল আবদি-ওয়ালি এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিলের বর্তমান নেতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছেড়ে দেওয়া হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে আগামী ৮ অক্টোবর উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
১৯৯০-এর দশকে শিশু অবস্থায় সোমালিয়া থেকে লন্ডনে আসা ৪২ বছর বয়সী আবদি-ওয়ালি গত মে মাসে ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা নির্বাচিত হন। এর আগে ২০২২ সালে লেবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় লেবার পার্টির শাখার চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর আবদি-ওয়ালি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন তিনি।
তিনি বলেন, শরণার্থী হিসেবে তার পরিবারকে এই এলাকা স্বাগত জানিয়েছিল এবং সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাদের আশা দেখিয়েছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর, স্কুল গভর্নর ও সমাজকর্মী হিসেবে এখানকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এখন এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে এবং তারা তাকে যে আশা দিয়েছিল, তা ফিরিয়ে দিতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
আবদি-ওয়ালি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক ও ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেছেন। ক্যামডেনের দুটি স্কুলের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
লেবার পার্টির সদস্যরা বুধবার রাতে ইউস্টনের সেন্ট প্যানক্রাস চার্চের বাইরে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রার্থী নির্বাচনের ভোটে অংশ নেন। স্থানীয় রাজনীতিক জর্জিয়া গোল্ড ও তার মা লেডি গেইল রিবাকও ভোটারদের মধ্যে ছিলেন।
গ্রিন পার্টির জ্যাক পোলানস্কির সঙ্গে লড়াই
হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে আবদি-ওয়ালির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রিন পার্টি শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।
আগামী ৮ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে লেবার ও গ্রিন পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে আসনটির এমপি ছিলেন কিয়ার স্টারমার। প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর গত সপ্তাহে তিনি এমপি পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে স্টারমারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায় ২৮ হাজার থেকে কমে ১১ হাজার ৫০০-এর কাছাকাছি নেমে আসে। ওই নির্বাচনে গ্রিন পার্টি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বামপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু ফেইনস্টেইন।
ফেইনস্টেইন এবার উপনির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচার থেকে গড়ে ওঠা ক্যামডেন পিপলস অ্যালায়েন্সও সম্ভবত গ্রিন পার্টিকে সমর্থন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে লেবারের ভোটব্যাংকে গ্রিন পার্টির চাপ বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে পোলানস্কির কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে দলটির জনসমর্থন আবারও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ব্রিটিশ নন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
প্রার্থী হওয়ার আগে আবদি-ওয়ালিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন, যাতে তার ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। লেবার পার্টি ওই মন্তব্যকে ‘সরাসরি বর্ণবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, লেবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করতে যে প্রার্থীকে হলবর্নের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে, তিনি সোমালিয়ায় জন্মেছেন, ‘আপনি কি বুঝতে পারছেন কী ঘটছে?’
এদিকে গ্রিন পার্টি নির্বাচনী এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নামানোর পরিকল্পনা করছে। লেবারও জানিয়েছে, দলের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যই আসনটিতে প্রচারে অংশ নিতে পারেন।
লেবারের উপনির্বাচন প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি লিয়াম কনলন আবদি-ওয়ালিকে ‘অসাধারণ স্থানীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, কাউন্সিলে আবদি-ওয়ালি আবাসন সংস্কার, গৃহহীনতা কমানো এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা অসামাজিক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
লেবার জানিয়েছে, স্থানীয় মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি ও আশাবাদ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আবদি-ওয়ালিকে সামনে রেখে ইতিবাচক নির্বাচনী প্রচার চালানো হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান












