spot_img
spot_imgspot_img

গাজ্জা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরানো হবে না: আমেরিকা

গাজ্জা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আমেরিকা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা পরোক্ষভাবে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকার প্রশাসনের এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রী গাজ্জা উপত্যকা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রচারণা জোরালো হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও সহিংসতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর ডানপন্থি নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও। এসব ভিডিওতে ডানপন্থি সমর্থকদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে জনমত জরিপে প্রায়ই এগিয়ে থাকা গাদি আইজেনকটকে ইসরাইলি বামপন্থি ও ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি রাজনীতিক মানসুর আব্বাসের জন্য একটি ‘ট্রয়ান হর্স’ বা ছদ্মবেশী ঘোড়া হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের নির্বাচনী প্রচারের বড় অংশজুড়ে রয়েছে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশ করছেন তিনি। এসব প্রচারে পশ্চিম তীরে তার তত্ত্বাবধানে কথিত ‘বিপ্লব’ হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রচারণাগুলোর একটি চালাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত এমন ভিডিও প্রকাশ করছেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের দৃশ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

সম্প্রতি বেন-গভির একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের একটি কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ইসরাইলি কারাগারে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো দৃশ্য দেখানো হয়। ভিডিওটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি সেটি সরিয়ে নেন। তবে এরই মধ্যে ভিডিওটি লাখ লাখ বার দেখা ও ডাউনলোড হয়ে যায়।

নির্বাচন সামনে রেখে ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে ভোটের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। নেতানিয়াহু ডানপন্থি দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন। কারণ ছোট দলগুলো প্রয়োজনীয় ভোট না পেলে ডানপন্থি ভোট বিভক্ত হয়ে যেতে পারে, যা তার ক্ষমতা ধরে রাখার সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে।

এ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কট্টর ডানপন্থি নেতারা। গাজ্জা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও নতুন করে সামনে এসেছে। বেন-গভিরসহ নেতানিয়াহুর মিত্ররা এমন পরিকল্পনার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার বক্তব্য এবং বাস্তবে ইসরাইলি মন্ত্রীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও অবৈধ দখলদারিত্বের অবস্থান ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ্জায় মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছামূলক বলা কঠিন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা সংকট, মানবিক দুর্ভোগ ও জীবনধারণের কঠিন পরিস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে।

গাজ্জা যুদ্ধের পর উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনিদের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ও ইসরাইলি কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ