সব পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার সৌদি আরবের অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ছাই থেকে উঠে দাঁড়ানো ফিনিক্স পাখির সঙ্গে সৌদি আরবের তুলনা করে তিনি এ কথা বলেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) রিয়াদে ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের (আইইএফ১৭) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, সৌদি আরব জ্বানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু এবং এর পর জুলাইয়ে তেহরানের সঙ্গে সমন্বিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সৌদি অবকাঠামোয় পুনরায় হামলা শুরুর পর আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি আরবের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এখন সবাই স্বীকার করে যে, সৌদি আরব দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কেউ আমাদের দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না বা অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া এবং আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, কেউ আমাদের দৃঢ়তা ভেঙে দিতে পারবে না। আমরা ফিনিক্স পাখির মতো, প্রতিবারই ছাই থেকে আবারও উঠে আসি।
পাইপলাইন কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক সংহতি
জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দূরদর্শিতার প্রমাণ হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কথা তুলে ধরেন তিনি জানান, বিকল্প এই পথে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবুর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
৬ অক্টোবর প্রিন্স আবদুল আজিজ ঘোষণা করেন, সৌদি আরব বর্তমানে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫৮ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করছে। কয়েক সপ্তাহ আগে হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটিই ছিল এর কার্যক্রমের মাত্রা নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
তিনি আরও বলেন, তাই আপনাদের সঙ্গে আমার এই বিশ্বাস ভাগ করে নিতে পেরে আমি আনন্দিত যে, এই দেশ এবং এই রিয়াদ শহর জ্বালানি নিরাপত্তার রাজধানী।
সমাবেশে ইতালির পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তামন্ত্রী জিলবার্তো পিকেট্টো ফ্রাতিন এবং নাইজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হাইনেকেন লোকপোবিরিও অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের মহাসচিব জাসিম ঈসা আল-শিরাওয়ি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্স আবদুল আজিজ জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অভিন্ন দায়িত্ব, যা কোনো একক দেশ একা পালন করতে পারে না। বরং এর জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি জানান, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পর মন্ত্রীরা “সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি” প্রকাশ করেছেন।
রিয়াদে সদর দপ্তর অবস্থিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের এই মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বিশ্বের জ্বালানিমন্ত্রীদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। একইসঙ্গে এটি জ্বালানি উৎপাদনকারী ও ভোগকারী দেশগুলোর মধ্যে সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
সূত্র : ইয়েনি শাফক











