প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অভিযোগ করেছেন, তাসনিম জারার পরাজয়ের পেছনে দেশের নারী ও নারীবাদী সংগঠনগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য থাকলেও পুরুষপ্রাধান্য নির্বাচনী মাঠে নারী প্রার্থীদের পাশে দাঁড়াতে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, “তাসনিম জারার পরাজয়ের পেছনে আমাদের নারীরা ও নারীবাদী সংগঠনগুলো দায়ী।” তিনি লেখেন, “সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তারা উচ্চকণ্ঠ ও আবেগপ্রবণ বক্তব্য দেন। অথচ পুরুষপ্রাধান্য নির্বাচনী মাঠে তাসনিম জারা ছিলেন প্রায় একাই।”
তিনি লেখেন, “খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, নারীবাদী সংগঠনগুলো তাঁর পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালিয়েছে।” তিনি আরও লেখেন, “সংহতি জানিয়ে কোনো সভার আয়োজনও ছিল বিরল।” ঢাকার রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “ঢাকার বন্ধুর রাজপথে ঘাম ঝরিয়ে জারাকে জাতীয় আলোচনায় তুলে আনতে যেন কেউই প্রস্তুত ছিলেন না।”
শফিকুল আলম লেখেন, “শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকজন সহযোদ্ধা ও সমর্থককে পাশে নিয়েই তাঁকে অসম এক লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নারী সংগঠনগুলোর কি তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল না?” একই পোস্টে তিনি লেখেন, “অথচ অনেককেই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মিলনায়তন ও হোটেলের সম্মেলনকক্ষে সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।”
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও শ্রমিকনেত্রী তাসলিমা আখতারও নির্বাচনী মাঠে প্রায় একাই ছিলেন।” এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “কোথায় ছিল নারী সংগঠনগুলো? কোথায় ছিলেন নারী শ্রমিক অধিকারকর্মীরা? নারী সাংবাদিক ও নারী চিকিৎসকেরাই বা কোথায় ছিলেন?”
তিনি আরও লিখেছেন, “কতজন তাঁর সঙ্গে পুরো একটি দিন কাটিয়েছেন, তাঁর পথচলার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর অনন্য গল্পটি তুলে ধরেছেন?”
পোস্টের শেষ অংশে শফিকুল আলম লেখেন, “যত ভাবি, ততই মনে হয় আমাদের নারী সংগঠনগুলো নারী সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”











