তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনার। একই সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে তিনি একজন স্বৈরশাসক বলে আখ্যা দেন, যিনি ইসলামি খেলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান।
তিনি বলেন, তুরস্ক সব অর্থেই একটি শত্রু রাষ্ট্র। তিনি (এরদোগান) একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি, যিনি অন্তরের গভীর থেকে ইসরাইলকে ঘৃণা করেন। তার ভাষায়, ইসরাইল ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর উচিত এরদোগানকে একটি হুমকি হিসেবে দেখা।
বুধবার (১০ জুন) ইসরাইলি রেডিও গালেই ইসরাইলের “ইয়োমান লাইলা” অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন কেলনার।
এর আগে মঙ্গলবার এরদোগান বলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তুরস্কের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। ইসরাইলি আগ্রাসন পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এরদোগান বলেন, ইসরাইলকে থামাতেই হবে। এটি মানবতার দায়িত্ব।
এর জবাবে নেতানিয়াহু এরদোগানকে ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক বলে আখ্যা দেন।
ইরান, গাজ্জা ও লেবাননে ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে তুরস্ক অন্যতম সরব সমালোচক হিসেবে সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের মে মাসে আঙ্কারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করে। পরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলায়ও যোগ দেয় তুরস্ক। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে।
তবে নিষেধাজ্ঞার পর ইসরাইলে তুর্কি রফতানি কমলেও তৃতীয় দেশ হয়ে চালান পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের চালানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২৪ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাকু-তিবিলিসি-জেইহান বা বিটিসি পাইপলাইন দিয়ে আসা আজারবাইজানের তেলও তুরস্কের বন্দর হয়ে ইসরাইলে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গাজ্জায় চলমান যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গভীর ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে দুই দেশের নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।
মে মাসের শেষ দিকে ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহরও তুরস্ককে “শত্রু রাষ্ট্র” হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্ক ইসরাইলের পরবর্তী বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
জোহর বলেন, “আমাদের তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তুরস্ক যদি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তাকে অত্যন্ত ভারী মূল্য দিতে হবে। ইসরাইল জানে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয় এবং যারা তার ক্ষতি করে, তাদের কীভাবে জবাব দিতে হয়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে আঙ্কারাকে নিঃসন্দেহে বিশাল মূল্য দিতে হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই











