টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ি উপজেলার বেশিরভাগ বাড়িঘর এখনো পানিতে নিমজ্জিত। কিছু এলাকায় পানি কমলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অনেক এলাকা।
ইতোমধ্যে এক দিনের বিরতি দিয়ে গত শনিবার রাত থেকে ফের অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে নগরীতে। এতে গতকাল রোববার (১২১ জুলাইা) সকাল থেকে মহানগরের নিচু এলাকাগুলো আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
একদিকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে বন্যার স্থায়ী রূপ, অন্যদিকে মহানগরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে থই থই পানি। সব মিলিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত জেলায় ১৩ জন মারা গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাছাড়া গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুধু শহর এলাকায় এক হাজার ৩৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো জেলা হিসাব করলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আড়াই হাজার মিলিমিটার ছাড়াবে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, আগের চেয়ে দৈনিক গড় বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁশখালী-সাতকানিয়াসহ উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত এলাকা সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার বাজালিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ, চরতি, ছদাহা, কেওছিয়া ইউনিয়ন ও সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার পাশাপাশি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
তবে বর্তমানে সাতকানিয়া পৌরসভার পানি কমতে শুরু করেছে। যদিও বেশিরভাগ ইউনিয়নের বাড়িঘর এখনো ৫০ শতাংশ পানিতে ডুবে আছে।
প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট ভেঙে সেখানে এক গ্রাম অন্য গ্রামের সঙ্গে, এক ইউনিয়ন অন্য ইউনিয়নের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে বহু ব্রিজ, কালভার্ট ও সেতু। গতকাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ত্রাণ নিয়ে গেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এতে আগে যারা ত্রাণ পাননি, তারাও শুকনো খাবার, সুপেয় পানি ও ওষুধ পেয়েছেন।










