spot_img

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব : এরদোগান

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের যৌথ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান অব্যাহত রাখবে তুরস্ক।

বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের যৌথ দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘তুরস্ক হিসেবে আমরা প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান অব্যাহত রাখব।’

দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইলের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকার’ সমগ্র বিশ্বের চোখের সামনে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। এটি উপেক্ষা করা বা এর প্রতি উদাসীন থাকা অসম্ভব।’

এরদোগান বলেন, ফিলিস্তিনি পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আলোকে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তুরস্ক কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে দখলদারিত্ব, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের নীতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে এরদোগান বলেন, শুধু ২০২৬ সালেই দখলদারদের সহিংসতা, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও উচ্ছেদের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিকে ‘পদ্ধতিগত দখলদারিত্বের’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেন এরদোগান। তিনি বলেন, এটি এমন একটি ক্ষয়িষ্ণু কৌশল, যার লক্ষ্য নিজ ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালনা ক্রমেই কঠিন করে তোলা।

এরদোগান আরও বলেন, নেতানিয়াহু সরকার বিশৃঙ্খলা ও নতুন নতুন সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাসীর আলোচ্যসূচি থেকে ফিলিস্তিনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা এতে সফল হবে না।

গাজ্জার বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং উপত্যকাটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের গঠনমূলক অবস্থান সত্ত্বেও ইসরাইলের বর্তমান সরকার তার আপসহীন ও আগ্রাসী অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

আল আকসা মসজিদের বিষয়ে এরদোগান বলেন, ‘আমাদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানের স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে চালানো উসকানির আমরা বিশেষভাবে কঠোর বিরোধিতা করছি।’

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি আঙ্কারার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এরদোগান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ক দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।

তিনি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, এসব নির্বাচন পুনর্মিলন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে এবং ফিলিস্তিনি ঐক্য আরও শক্তিশালী করবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এরদোগান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এবং তার সম্মানিত প্রতিনিধিদলকে এই সফরের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই এবং সমগ্র ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি।’

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ