spot_img

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ‘আবাবিল পাখির মতো’, তাদের দমানো সম্ভব নয়: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ‘আবাবিল পাখির মতো’; তাদের দমানো সরকারের পক্ষেও সম্ভব নয়, বাইরের কারও পক্ষেও সম্ভব নয়। শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ বিভিন্ন দাবির সমাধান সংসদে নয়, ভবিষ্যতে রাজপথেই করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এটা পার্লামেন্টে সমাধান হবে, আমার মনে হয় না। এটা রাজপথেই ভবিষ্যতে সমাধান করতে হবে।’

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটির কর্মীদের দমানো সরকারের পক্ষেও সম্ভব নয়, বাইরের কারও পক্ষেও সম্ভব নয়।

পাটওয়ারী বলেন, শহীদ ওসমান হাদি যখন লড়াই করেছিলেন, তখন অনেকেই তার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন, আবার অনেকে অংশ নেননি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শহীদ ওসমান হাদির গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুধাবন করবে বলে তিনি মনে করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, গণভবনের সামনে অবস্থানের সময় তিনি সংগঠনটির কর্মীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তারা অত্যন্ত সাহসী এবং একটি ‘গুছানো টিম’ হিসেবে কাজ করছেন। আদর্শ, ন্যায়, নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে তারা শহীদ ওসমান হাদির মান-সম্মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করেননি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বলে গিয়েছিলেন, তিনি চলে গেলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের রেখে গেছেন।

পাটওয়ারীর দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা সংখ্যায় স্বল্প নন। তাদের সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ যুক্ত হবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে জনমতের কথাও তুলে ধরেন পাটোয়ওরী।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিরোধী দল ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় গেলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে প্রথমেই জানতে চান, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার কবে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দল কিংবা সরকারি দল এ বিষয়ে তুলনামূলক কম কথা বললেও বিষয়টির সমাধান কেবল সংসদে হবে বলে তিনি মনে করেন না। রাজপথে জনগণের কণ্ঠস্বরই ভবিষ্যতে এ দাবির সমাধানের পথ তৈরি করবে।

পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের সামনে রাজপথ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জনগণের এই কণ্ঠস্বর ভবিষ্যতে ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সংগঠনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাদ ফজর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। কবর জিয়ারত শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।

মুনাজাতে শহীদ ওসমান হাদিসহ জুলাই অভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

পরে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় বিপ্লবী র‌্যালি ‘রাহে ইনকিলাব’। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির পরবর্তী পর্বে ছিল লাঞ্চ ব্রেক ও ‘আজাদীর মেলাকাত’। দুপুর ২টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ পর্বের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব।

এরপর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অভিমত পর্ব শুরু হয়, যা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলার কথা। এ ছাড়া বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ‘আঘাত-শ্রাবণ জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক মঞ্চনাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শেষ পর্বে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বিশেষ আয়োজন ‘ইশক-এ ইনকিলাব’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির গত দুই বছরের পথচলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ