গাজ্জায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু পর থেকে তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত ২৪ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জনই শিশু।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি শীত মৌসুমের শুরু থেকে তীব্র শীতের কারণে অন্তত সাতজন শিশু মারা গেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত সবাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। তারা ইসরাইলি হামলার কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাধ্যতামূলক বাস্তুচ্যুতি শিবিরের তাঁবুতে বসবাস করছিলেন।
মিডিয়া অফিস জানায়, চলমান নিম্নচাপজনিত বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে গাজ্জা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭ হাজার তাঁবু উড়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, গাজ্জায় আবারও হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রা নেমে আসায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন ও শ্বাসরোধকারী অবরোধের মধ্যেই এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব হামলা ও অবরোধে ব্যাপকভাবে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং ১৫ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুতি শিবিরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ন্যূনতম জীবনযাপনের মৌলিক সুযোগও নেই।
মিডিয়া অফিস জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে শিশুদের। গাজ্জা উষ্ণতার উপকরণ প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট তীব্র এবং কম্বল ও শীতবস্ত্রের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। এর পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
বিবৃতিতে এসব মৃত্যুর জন্য ইসরাইলকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে। মিডিয়া অফিসের ভাষায়, এসব মৃত্যু ‘ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির’ একটি বৃহত্তর নীতির অংশ।
এ পরিস্থিতিতে মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মানবিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়স্থল স্থাপন, উষ্ণতা ও ত্রাণসামগ্রী অবাধে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা এবং আরও প্রাণহানি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু











