৯৫ শতাংশ আফগান, নারীদের ঘরের বাইরে পেশাদার কাজে জড়ানোর বিপক্ষে বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পাবলিক ওয়ার্ক বা গণকার্যক্রম বিষয়ক মন্ত্রী দ্বীন মুহাম্মদ হাকবিন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাতকার দেওয়ার সময় তিনি একথা জানান।
হাকবিন বলেন, ৯৫ শতাংশ আফগান, নারীদের ঘরের বাইরে পেশাদার কাজে জড়ানোর বিপক্ষে। তারা চান না তাদের নারীরা ঘরের বাইরে গিয়ে সমাজে কাজ করুক। যাদেরকে নারী অধিকার নারী অধিকার বলে শোরগোল করতে দেখা যাচ্ছে তারা মূলত পশ্চিমাদের দ্বারা প্রশিক্ষিত। তারা সংখ্যায় মাত্র ৫ শতাংশ। তারা নারী অধিকার নিয়ে তারা যেসব অভিযোগ তুলছে তাও সঠিক নয়।
এসময় সুরাইয়া পাইকান নামের এক আফগান নারী অধিকার কর্মী বলেন, নারীদের বাইরে কাজের সুযোগ করে দিলে সমাজই লাভবান হবে। নারীদের কাজের সুযোগ থাকা দরকার। এতে তারা জনগণ ও সমাজ সেবায় যেমন নিয়োজিত হতে পারবে তেমনি এটি আয়ের উৎস হওয়ায় সম্পদশালীও হয়ে উঠবে। এছাড়া কুরআনের নির্দেশনা মতে, নারীদেরও সম্পদশালী হওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এবিষয়ে কুরআনের বর্ণনার সঠিক ব্যাখ্যা উল্লেখ করে আয়ের উৎসহীন বিধবা নারীদের ব্যাপারে উপ মন্ত্রী হাকবিন বলেন, জরুরী ভিত্তিতে সাহায্যের প্রয়োজন দেশে এমন হাজার হাজার বিধবা নারী রয়েছে। এমন অসহায়দের বিষয়ে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার খুবই তৎপর। একটি ফরমান জারি করে তাদের তাৎক্ষণিক সাহায্যের আদেশ দেয়া হয়েছে আমাদের। আমরাও সেই ফরমান অনুসারে প্রাথমিকভাবে এমন অসহায় নারীদের মধ্যে ১ হাজার জনকে দেশে কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সাথেও একটি চুক্তি সাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। যা বাস্তবায়িত হলে ৫৫ হাজার জন আফগান কর্মীর চাকরির ব্যবস্থা হবে।
এসময় তিনি প্রশিক্ষণের কারণে পশ্চিমা আদর্শ লালনকারী আফগান, বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমালোচনা করে বলেন, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম ও আইন রয়েছে। এমনকি জাতিসংঘ প্রণীত আইনেও স্পষ্ট বলা আছে যে, প্রত্যেক ধর্মকে সম্মান করতে হবে। তবে কেনো তারা নারী ইস্যুতে আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করছে? আমরা চাই না পশ্চিমারা আমাদের উপর তাদের আইন চাপিয়ে দিক। নারী অধিকারকে ইস্যু বানিয়ে কোনো দেশেরই উচিত নয় আমাদের ধর্ম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আইনে হস্তক্ষেপ করা।
সূত্র: টোলো নিউজ











