spot_img
spot_img

আফগানিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে চীন

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে চীন। বুধবার আমিরুল মুমিনীন বা সর্বোচ্চ নেতা শায়খুল হাদীস মাওলানা হেবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ কাবুলে নিয়োগপ্রাপ্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের পরিচয় পত্র গ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী।

তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোন দেশ আফগানিস্তানে নিজেদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করলো। এই সিদ্ধান্তকে তালেবান সরকারকে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবনিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাও শিং আফগান রাষ্ট্রীয় ভবন আর্গ-এ পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী তাকে স্বাগত জানান।

পরিচয় পত্র পেশের পর আফগান প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকীর সাথে সৌজন্য বৈঠক করেন চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাওশিং। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে রাষ্ট্রপরিচালনার সকল গুণাবলি বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাবুলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাওশিং বলেন, চীন আফগানিস্তানের ভালো প্রতিবেশী। প্রতিবেশী হিসেবে এর সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান প্রদর্শন করে থাকে চীন। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা নেই আমাদের। আফগানিস্তান প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠুক এটিও চায় না চীন।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, গত দুই বছরে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি, অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের অভাবনীয় সাফল্যে চীন অনেক আনন্দিত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দ্রুত উন্নতি করছে আফগানিস্তান। আমার মেয়াদকালে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও রাজনীতি, অর্থনীতি সহ অন্যান্য খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার চেষ্টা করবো।

বৈঠকে আফগান প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ায় আমিরুল মুমিনীন বা সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এই পদক্ষেপ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে উচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চীন গত ২ বছর যাবত যে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছে তা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে আফগান প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারে আরো উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

এছাড়া চীনা রাষ্ট্রদূতের আগমনের পূর্বে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রাথমিক ধাপ। অন্যান্য দেশগুলোরও উচিত চীন থেকে উৎসাহিত হওয়া।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ