spot_img
spot_img

শরিয়াহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ছে ইমারাতে ইসলামিয়া

ইমারাতে ইসলামিয়া পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তার মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করার বিষয়টি রাষ্ট্রের জননীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে সামনে এসেছে। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় এই ব্যবস্থাকে শাসনের নিয়ামক কাঠামো ও মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কান্দাহারে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে শুধু নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত জারির পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে ইসলামী শরিয়াহর বিধান ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তাগুলো অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ফরমান ও নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও নির্বাহী কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্য শুধু প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে জ্ঞানচর্চা ও দাওয়াহর দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। শরয়ি জ্ঞান প্রচার, মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন এক সুদৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন যে, ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক কোনো শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা শুধু আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করা যায় না। এর জন্য ধর্ম, ধর্মীয় বিধান ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও বিদেশি হস্তক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত আফগান সমাজে এই আহ্বান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এসব পরিস্থিতি ধর্মীয় সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিকভাবে সুরক্ষিত করার প্রয়োজন আরও জরুরি করে তুলেছে। এটি ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার মূল্যবোধ সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

এ কারণে শরিয়াহভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়াকে শুধু দাওয়াহমূলক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং দৃঢ় ধর্মীয় ও নৈতিক ভিত্তির ওপর সমাজকে পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনায় নাগরিকদের প্রতি সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের সেবা, তাদের সমস্যার সমাধান এবং দায়িত্ববোধ ও আমানতদারির সঙ্গে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নিঃসন্দেহে এসব বিষয় ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তার মৌলিক ভিত্তিগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। এই চিন্তাধারা শাসনক্ষমতার বৈধতাকে জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণের সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে।

এই নীতি ইঙ্গিত করে যে, ইমারাতে ইসলামিয়া ধর্মীয় অঙ্গীকার ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়।

ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতা নির্ভর করবে তারা শরিয়াহর নীতিগুলোকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব কতটা নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর।

আফগানিস্তান যখন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ এবং নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সরকারের সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা, কর্মপন্থা সংশোধন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ তৈরি করছে।

কান্দাহারের বৈঠকের বার্তাগুলো থেকে বলা যায়, ইমারাতে ইসলামিয়া এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়ন, শরয়ি জ্ঞান প্রচার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের সেবাকে নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রকল্পের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

নেতৃত্ব এসব ভিত্তিকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে আস্থা শক্তিশালী করার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখে। এমন এক সময়ে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যখন আফগানিস্তান শাসনব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভিত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

সূত্র: হুরিয়াত রেডিও

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ