spot_img
spot_img

সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম (এসআইএস) স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।

তিনি জানান, ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান চলছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

জানা গেছে, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়ম এবং জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ২০১৮ সাল থেকে সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার ওই সিস্টেমে বিভ্রাট দেখা দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একই ঠিকাদারের মাধ্যমে সেটি মেরামত ও সংস্কারের কাজ করানো হয়।

দুদক জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাউন্ড সিস্টেমটি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে সিস্টেমটি সংস্কার ও মেরামতের কাজও তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করানো হয়।

সূত্র জানায়, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ওই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ