তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইস্তিকলাল স্ট্রিটের রবিবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাকারী একজন সিরিয়ান মহিলা। তার নাম আহলাম আলবাশির। তিনি চার মাস আগে পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে ইস্তাম্বুলে প্রবেশ করেন।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী এসব তথ্য জানায়।
তুরস্কের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ৬ জন নিহত এবং ৮১ জন আহত হয়েছে।
এই হামলার জন্য তুরস্ক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ওয়াইপিজি/পিওয়াইডি/পিকেকে দায়ী করেছে।
তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকা আহলাম আলবাশিরকে সোমবার ভোরে ইস্তাম্বুলের কুজুকেকমেজ জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় চার মাস আগে হামলাকারী অন্য একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে ইস্তাম্বুলে আশেণ। তিনি অন্য দুই সিরিয়ান নাগরিকের সাথে এসেনলার জেলায় অবস্থান করছিলেন।
সূত্র অনুসারে, আলবাশির এবং অন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রযুক্তিগত ফলো-আপে ধরা না পড়ার জন্য ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম এড়িয়ে চলতেন। চার মাস ধরে তারা একটি কাপড়ের কারখানায় কাজ করে যাচ্ছিলেন।
সূত্র আরো জানায়, আলবাশিরকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, তিনি স্বীকার করেছেন যে তাকে পিকেকে/ওয়াইপিজি/পিওয়াইডি দ্বারা বিশেষ গোয়েন্দা এজেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর সিরিয়ার আইন আল-আরবে অবস্থিত সন্ত্রাসী সংগঠনটির সিরিয়ান সদর দফতর থেকে তিনি হামলার বিষয়ে নির্দেশনা পেয়েছেন।
পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে তিনি অন্যান্য সন্দেহ ভাজনদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, হামলার দিন আলবাশির আরেক সন্দেহভাজনের সাথে বেয়োগলু জেলায় আসেন। এই জেলাতেই ইস্তিকলাল এভিনিউ অবস্থিত। আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে তুরস্কের পুলিশের একটি সূত্রের মতে সন্ত্রাসী সংগঠনটি আলবাশিরকে গ্রিসে পাচার করে সেখানে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল।
পিকেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে। নারী ও শিশু সহ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এই সংগঠনটি।। ওয়াইপিজি হচ্ছে পিকেকে-এর সিরিয়ান শাখা।
সূত্র : আনাদোলু











