আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাঁর ভাষ্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি থাকায় রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্বাচনী ঐক্যকে তিনি আনুষ্ঠানিক জোট নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এ কারণেই এখানে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রাখা হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি আছে। এমনকি নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে।”
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনী ঐক্যের কাঠামো নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। তাঁর ভাষায়, “জোট হলে কাঠামো থাকত। এখানে তা হয়নি। এখানে ‘বাই রোটেশন’ পদ্ধতিতে সবাই বক্তব্য রেখেছেন। এটাকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ বলা যায়।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত নয় এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আবেগী বক্তব্য এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আবার আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্ধারিত একটি বৈঠক না হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি মানবিক ভুল। সংশ্লিষ্ট নেতা অসুস্থ থাকায় বৈঠকের বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এখানে কোনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অসম্মানের প্রশ্ন নেই।”
আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব আসনের কিছু ইসলামী আন্দোলনের জন্য এবং কিছু অন্যান্য শরিক দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এসব আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি। জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়, তাহলে তারা এককভাবে নয়, বরং সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, “এটা আমাদের ডিক্লেয়ার্ড পজিশন।”
তিনি আরও বলেন, দল বা জোটের গঠন যাই হোক না কেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি বলেন, “আমরা ৩০০ আসনেই থাকব। ৩০০ আসনেই প্রার্থী থাকবে।”











