ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী বলেছেন, স্বাধীন আফগানে কয়েক দশকের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে শুধু আফগান নয় বরং এই অঞ্চলের সব দেশকেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বঞ্চিত করা হয়েছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অপার সম্ভাবনা থেকে।
সম্প্রতি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ার এমন দেশগুলোর মাঝে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীন, ইরান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তানসহ আফগানিস্তানের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী বলেন, আমরা আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সকলেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের স্বার্থ অভিন্ন। এই অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা হবে সম্মিলিত, যাতে অঞ্চলের স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও যেকোনো ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেনো আমরা আমাদের এই নতুন সম্পর্কের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।
তিনি বলেন, দখলদার বিদেশী বাহিনী প্রত্যাহার, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় উন্নতি , কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন, বিচার ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সকলের অধিকার নিশ্চিতকরণ, মাদক চাষ ও পাচার নিষিদ্ধকরণের মতো আফগানের সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবর্তন ও আফগান সরকারের ইতিবাচক অভিপ্রায় আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলের মধ্যকার নিবিড় বন্ধন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি। আমরা কোনোভাবেই আফগানিস্তানকে নেতিবাচক সংঘাত ও অনাচারের কেন্দ্রে পরিণত হতে দিবো না।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়, ট্রান্স-আফগান রেলওয়ে, পিআই (তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া গ্যাস পাইপলাইন) টিএপি (তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান,পাকিস্তান বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন) কাসা-জার (আফগানিস্তানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত যাওয়া কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তানের একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন যা দৈর্ঘে ১২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত) এবং চায়না বেল্ট এন্ড রোড ইনশিয়েটিভের মতো আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সংযোগ প্রকল্পগুলোতে নিজেদের মতো করে ভূমিকা রাখার।
তিনি বলেন, এখন আফগানিস্তানকে অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আশাকরি, এই অঞ্চলের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আনয়নের পরিবেশ তৈরি করবে, যাতে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আমাদের সহায়তা হয়। আর আমরাও রাষ্ট্রের কর্তা হিসেবে আপনাদের যুক্তিসঙ্গত সহযোগিতার জন্য যা প্রয়োজন তা পালনে প্রস্তুত থাকবো।
তিনি আরও বলেন, দখলদার বিদেশী বাহিনী প্রত্যাহার, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় উন্নতি , কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন, বিচার ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সকলের অধিকার নিশ্চিতকরণ, মাদক চাষ ও পাচার নিষিদ্ধকরণের মতো আফগানের সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবর্তন ও আফগান সরকারের ইতিবাচক অভিপ্রায় আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলের মধ্যকার নিবিড় বন্ধন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি। আমরা কোনোভাবেই আফগানিস্তানকে নেতিবাচক সংঘাত ও অনাচারের কেন্দ্রে পরিণত হতে দিবো না।
মাওলানা মুত্তাকী বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আফগানিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে যা মূলত এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুযোগ বয়ে আনবে আমাদের জন্য। আঞ্চলিক কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলকে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার ও ভূখণ্ডে মাদক চাষ, মাদক পাচার করার সুযোগ না দেওয়ার ব্যাপারেও আফগানিস্তান বদ্ধপরিকর।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২ বছর হতে চলেছে তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার গঠনের কিন্তু আল্লাহ পাকের শুকরিয়া এখনো এমন কোনো অপ্রীতিকর সহিংস ঘটনা ঘটেনি যা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আফগান ভূখণ্ড থেকে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মধ্যেই আফগান জাতীয় স্বার্থ রক্ষা নিহিত বলে বিশ্বাস করি। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের সকলের ভূখণ্ডের স্বার্থও রক্ষা করার সামর্থ রাখে।
মিত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আশাকরি, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সকল ফোরাম ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আফগানিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে আমরা সকলে মিলে নতুন এশীয় শতাব্দী প্রত্যক্ষ করতে পারি।
সূত্র: আল ইমারাহ











