ইরানের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ঘোষিত চুক্তিকে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে অভিহিত করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিটিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে। চুক্তিটি তার পছন্দ না হলে আমেরিকা আবার ইরানের ওপর হামলা শুরু করবে।
বুধবার (১৭ জুন) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, “এটি আমার পছন্দ না হলে আমরা আবার তাদের ওপর গুলি চালানো শুরু করব।”
ইরানের নেতারা “ঠিকভাবে আচরণ না করলে” আমেরিকা তাদের ভূখণ্ডে আবারও “বোমা ফেলা” শুরু করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। এরপর সংঘাতের অবসান ঘটাতে সোমবার একটি কাঠামো চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোই মূল লক্ষ্য
ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, “অনেক কারণেই এটি একটি দারুণ চুক্তি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এর ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ, তা হলো, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।”
চুক্তিটিকে “অত্যন্ত শক্তিশালী” বলেও অভিহিত করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের খবর অস্বীকার
আমেরিকার করদাতাদের অর্থ সংশ্লিষ্ট এবং ইরানের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিলের খবরও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে একটি “মিথ্যা খবর” বলে আখ্যা দেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিনিয়োগ করছি না। আমরা ১০ সেন্টও দিচ্ছি না।”
তবে অন্যরা চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে বলেও তিনি জানান।
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি বলব, ইরানের আচরণ কেমন হয়, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কিছুদিন বিনিয়োগ করবে না।”
তেলের দাম কমেছে, খুলছে হরমুজ প্রণালি
যুদ্ধের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, উত্তেজনা কমে আসায় বাজারে তেলের দাম “দ্রুত কমে গেছে”।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি “ইতোমধ্যে আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে”। আগামী দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি সচল হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, কোনো চুক্তি না হলে বিশ্বকে একটি “মহামন্দার” মুখোমুখি হতে হতো। কারণ রকেট ও মাইনের ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকত।
সূত্র: আনাদোলু











