spot_img
spot_img

ইরান চুক্তির নথি ইসরাইলকে দেখাতে অস্বীকৃতি আমেরিকার

ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের মূল লিখিত পাঠ্য বা টেক্সট দেখার জন্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আমেরিকা।

বুধবার (১৭ জুন) আমেরিকান ও ইসরাইলি বিভিন্ন মূল ধারার গণমাধ্যমের রিপোর্টের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সাধারণ বিষয়গুলো সম্পর্কে মৌখিকভাবে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হলেও চুক্তির মূল দাপ্তরিক অনুলিপিটি তেল আবিবকে সরবরাহ করা হয়নি।

রোববার (১৪ জুন) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ডিজিটাল উপায়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যকার চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে চুক্তির ভেতরে থাকা সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সমঝোতা স্মারকের পক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

জেডি ভ্যান্স গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে চমৎকার দিক হলো মার্কিন আমেরিকা এখন সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারছে।

এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলেও ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে একতরফাভাবে বাতিল করে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি এই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং এটি জনসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করবেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির মূল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে তিনি হয়তো খুব শীঘ্রই একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই চুক্তির প্রতিটি শব্দ পড়ে শোনাবেন যাতে গণমাধ্যম এটি নির্ভুলভাবে প্রচার করতে পারে।

তবে ইসরাইলকে চুক্তির মূল পাঠ্য না জানানোর এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে এই ধারণাকে আরও জোরালো করছে। নতুন এই চুক্তিটি মূলত ইরানের পক্ষেই গেছে এবং এর ফলে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো অপূর্ণই রয়ে গেছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ ইতিমধ্যেই এই সমঝোতাকে একটি অত্যন্ত খারাপ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইসরাইলের কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই সমঝোতাটি নিশ্চিতভাবেই ইরানকে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করবে।

এদিকে এই চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের যেকোনো ধরনের সমালোচনা বা অসন্তোষের আভাস পাওয়া মাত্রই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমিরের পাশে বসে ট্রাম্প তেল আবিবকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন আমেরিকা না থাকলে বর্তমান পৃথিবীতে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না এবং অনেক আগেই ইসরাইল পৃথিবীর বুক থেকে পুরোপুরি মুছে যেত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ