আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী এবং নয়জনের বয়স ১৮ বছরের কম।
এদিকে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর এবং পাঁচটি সেতুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও ইরানশহরসহ একাধিক স্থানে চালানো হামলায় আটজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।
সম্প্রচারমাধ্যমটির তথ্যমতে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি সেতুতে আমেরিকার পৃথক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।
আইআরআইবি কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তাসনিম আরও জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর মধ্যে বন্দর খামিরের কাছে অবস্থিত বন্দর আব্বাস-শিরাজ সেতুও রয়েছে। হামলার পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সি বন্দর আব্বাসে হামলার পর সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া মেহের নিউজ এজেন্সি দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ইরানশহর বিমানবন্দরের কাছেও একটি বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের আশপাশের এলাকাগুলোতেও আমেরিকা হামলা চালিয়েছে।
পরে ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, মার্কিন হামলায় মোট পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ ও কাহুরেস্তান সেতুও রয়েছে। সেতু দুটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সরঞ্জাম চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের পালটা হামলা
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনা এবং তাদের লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট সেন্টার বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
শুক্রবার ভোরে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানায়, সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, এ হামলায় একটি রাডার ব্যবস্থা ও বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
সেন্টকমের বক্তব্য
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরেকটি আক্রমণাত্মক হামলা সফলভাবে শেষ করেছে তারা। ইরানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন হামলার এটি ছিল টানা ষষ্ঠ রাত।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।
এর জবাবে যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান।
দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মাত্র গত মাসেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েক দিনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে উভয় পক্ষ আবারও একে অপরের ওপর হামলা শুরু করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি










