spot_img

যুদ্ধবিরতির পরও গাজ্জায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু হত্যা করছে ইসরাইল

গাজ্জায় শিশুদের হত্যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও উপত্যকাটিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজ্জায় ইসরাইলি হামলায় ২১ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

হারেৎজের তথ্যমতে, নিহত শিশুদের অধিকাংশই বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া স্নাইপারের গুলি, ভবন ধসে পড়া এবং গোলার স্প্লিন্টারের আঘাতেও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজ্জার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অনেক শিশু মারা গেছে। ক্ষুধা ও রোগেও আরও অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে তাদের মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গাজ্জার মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠার বিষয়টিও তুলে ধরেছে হারেৎজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধাবিহীন তাঁবুতে বসবাস করছে।

এতে আরও বলা হয়, তাঁবু শিবিরগুলোতে ইঁদুর ও মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হাজারো মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ১২৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজ্জার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, হারেৎজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ