দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় মাদক দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেছেন, মাদক প্রতিরোধে এর চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিকই নির্মূল করতে হবে। মাদকের চাহিদা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে প্রচেষ্টা চালানো সম্ভব হলেও সরবরাহব্যবস্থা নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ যে জনমিতিক লভ্যাংশ পেয়েছিল, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা যেত। এ জন্য জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর, উদ্বৃত্ত জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকারই এ ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং উদ্বৃত্ত জনশক্তিকে নষ্ট করতে মাদককে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের জনসম্পদ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, এখন জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মাদক প্রতিরোধ করা। আর মাদক প্রতিরোধ করতে হলে এর চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিকই নির্মূল করতে হবে। আমরা মাদকের চাহিদা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাতে পারি, কিন্তু মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক সরবরাহের সঙ্গে দেশের অনেক রথী-মহারথীর সংযোগ থাকে। সরষের মধ্যেই ভূত থাকে। তাই মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করতে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এককভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পীর সাহেব চরমোনাই মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চরমোনাই ইউনিয়নসহ পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই; দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের; বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) মুহাম্মাদ বেলাল হুসাইন এবং বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম।










