spot_img

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধন করা না গেলেও সংস্কার সম্ভব: তাজুল ইসলাম

সংবিধানে এমন কিছু মৌলিক স্তম্ভ বা কাঠামো রয়েছে, যা সংসদ চাইলেও সংশোধন করতে পারে না বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে এই মৌলিক কাঠামো রক্ষা করা হয়। তবে সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে একটি টেলিভিশন টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, কেবল সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হলে ভবিষ্যতে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করেছিল।

তিনি বলেন, শুধু সংশোধনের পথে এগোলে সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এতে কেবল বাহ্যিক বা কসমেটিক কিছু পরিবর্তন আসবে, যা জাতির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করবে না।

তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার। গত ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই সংস্কারের দাবি উঠেছিল।

তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সদস্যরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমান সরকার একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, যা প্রচলিত সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ছিল না। এ কারণে সংবিধান সংস্কারের জন্য আলাদা আদেশের প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই গণভোটের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি হয়েছে। জনগণ সচেতনভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং তা মেনে নিতে সবাই বাধ্য।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে চাইছে। ‘সংস্কার পরিষদ’ নামটি নিয়ে দলটির প্রবল আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য হয়নি। রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্যই এই আন্দোলন হয়েছিল।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ