spot_img

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশ্বকে শান্তির বার্তা দেবে: এরদোগান

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি নতুন পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

তিনি বলেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে এই চুক্তি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

তার ভাষায়, এই চুক্তি বিশ্ববাসীর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব সুযোগ আমাদের সামনে তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, মক্কায় ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চার হয়েছে এবং একই সঙ্গে শান্তির বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারাকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে তুলনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে বাকি দেশগুলো তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে, এই চুক্তি তা নিশ্চিত করে।

এরদোগান বলেন, “ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এ যা কিছু রয়েছে, একইভাবে এই যৌথ প্রতিরক্ষা ধারণার অর্থ হলো, কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই তিন দেশ একসঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মিসরের মতো আরও কিছু দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার কঠিন এক সময়ে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, আঙ্কারা দৃঢ়ভাবে শান্তির পক্ষে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পেছনে ইসরাইলকে প্রধান আগ্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করেন তিনি।

এরদোগান বলেন, “আমরা অবশ্যই যুদ্ধের পক্ষে নই।”

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাত উসকে দেওয়া এবং এ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রধানত ইসরাইল দায়ী।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে সমর্থন দিতে তিনি শিগগিরই দামেস্ক সফর করবেন। পাশাপাশি ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যে তুরস্ক গাজ্জা বা লেবাননকে একা ছেড়ে দেবে না বলেও জানান তিনি।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এরদোগান আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, মস্কো আঙ্কারার সঙ্গে ধারাবাহিক টেলিফোন কূটনীতি বজায় রেখেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের অগ্রাধিকার নয়। তবে আমরা তাদের বলে যাচ্ছি, এতে তুরস্ক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই।”

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ