লাইলাতুল কদরের রজনীতে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে আকসায় উপস্থিত হয়েছেন ২ লক্ষ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) কুদস ইসলামী আওকাফ কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে আকসায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার মুসল্লীর জনসমাগমের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
তারা জানিয়েছে, মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরের রজনীতে রাত্রী জাগরণ ও ইবাদাতের উদ্দেশ্যে ২ লক্ষ ৮০ হাজার মুসল্লীর উপস্থিতি হয়েছে আজ। ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনীর কঠোরতা ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও পবিত্র আকসায় তারা একত্রে এশা ও তারাবীর নামাজ আদায় করে। সকলেই ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে আকসায় রাত্রী যাপন করেন।
জানা যায়, আকসায় জনসমাগম রোধের উদ্দেশ্যে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল রমজানের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ফিলিস্তিনিদের উপর। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করে অবৈধ রাষ্ট্রটি।
নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ৫৫ বছরের কম বয়সীরা আকসায় প্রবেশ করতে পারবে না। ২০০-২৫০ জনের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবে না।
এছাড়া সম্প্রতি আকসা প্রাঙ্গণ, মসজিদুল আকসা ও প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে তাণ্ডব চালায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী সেনারা। ইস্টার সানডে, গুড ফ্রাইডেকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান ফিলিস্তিনিরা প্রাচীন আকসায় গমন করলে তাদের উপরও সন্ত্রাসী হামলা চালায় তারা।
এতে মুসলিম ও খ্রিস্টানবিশ্ব সহ পুরো পৃথিবীর প্রায় সব দেশই ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির তীব্র নিন্দা জানায়।
উল্লেখ্য, কুরআনে পাকের সূরা কদরের ৩ নং আয়াতে লাইলাতুল কদরের রজনীকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী বলে ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।
বাইতুল মুকাদ্দাসের ফজিলতের ব্যাপারে মুসনাদে আহমাদের ১১৪১৭ নং হাদিসে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) এর বর্ণনায় এসেছে, নবী সা. বলেন, তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত তোমরা তোমাদের সফর নির্ধারণ করো না। সেগুলো হলো, মসজিদুল হারাম, আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) ও বাইতুল মুকাদ্দাস।
আর এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, হযরত সুলাইমান (আঃ) যখন বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ শেষ করেছিলেন, তখন আল্লাহর নিকট দুআ করেছিলেন, যে ব্যক্তি কেবলমাত্র নামাযের উদ্দেশ্যেই এই মসজিদে উপস্থিত হবে, সে ব্যক্তি যেন ঐ দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।
শুআবুল ঈমান নামক হাদিসের কিতাবে (৩/৩০৫-৩০৬) একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা পাওয়া যায়, রমযান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরয আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করল।
সুনানে দারেমীর ১৮২২ নং হাদিসে উবাদা ইবনুস সামেত (রা.) এর সূত্রে সহিহ সনদে বর্ণিত আছে, তোমরা (রমজানের) শেষ দশকে তা (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধান কর। ২৫ তম, ২৭ তম এবং ২৯ তম রজনীতে।
এছাড়া সহিহ বুখারীর ২০২৩ নং হাদিসেও ২৫ তম, ২৭তম এবং ২৯ তম রজনীতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান সংক্রান্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।
তাই রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রীতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর পাশাপাশি ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা বাইতুল মুকাদ্দাসেও সাধারণ মুসল্লীদের বিশেষত ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। শত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও পৃথিবীর সকল নবীর নামাজের স্থানটিতে ইবাদাত বন্দেগীর জন্য হাজির হয়ে থাকেন।
সূত্র: টিআরটি আরাবি











