spot_img
spot_img

ইরানের মিনাব স্কুলে আমেরিকার হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’: জাতিসংঘ মিশন

ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার যৌক্তিক ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন। ওই হামলায় প্রায় ১২০ শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। একই দিনে দেশটির লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনায় আমেরিকান হামলাকেও যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে মিশন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে ১৫০ জনের বেশি নিহত হন, যাদের প্রায় ১২০ জন শিশু।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি একটি সামরিক স্থাপনার পাশে অবস্থিত হলেও সেটি যে শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। ভবনের দেয়ালে শিশুদের চিত্রকর্ম, বিদ্যালয়ের পরিচয়সংবলিত সাইনবোর্ড ও খেলার জায়গা ছিল। সেখানে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকান বাহিনী লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সময় বিদ্যালয়টি সম্পর্কে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে। তথ্য হালনাগাদ এবং ভবনটি প্রকৃতপক্ষে সামরিক স্থাপনা কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

মিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ব্যর্থতা সাধারণ অবহনার চেয়েও গুরুতর। বিদ্যালয়টি বেসামরিক স্থাপনা হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও আমেরিকান বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, বিদ্যালয় ভবনটিই ছিল হামলার নির্ধারিত লক্ষ্য। পার্শ্ববর্তী সামরিক স্থাপনায় হামলার সময় ভুলবশত ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্যালয়ে আঘাত হেনেছে, এমন ব্যাখ্যার সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল নেই।

একই দিন লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় আমেরিকান হামলায় আরও ২২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এতে আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘের মিশন এই হামলাকেও নির্বিচার আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, মিনাবের বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় তাদের নিজস্ব তদন্ত এখনো চলছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়টিতে হামলা চালায়নি।

অন্যদিকে, আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড এর আগে লামের্দ শহরে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসও এর অনুসন্ধান প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই প্রতিবেদনে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচার আটক ও গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

জাতিসংঘের মিশন আমেরিকা ও ইরান উভয় দেশকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র :আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ