লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শুভেন্দু, তুমি যতই লাফালাফি করো, আমরা নবীর শিক্ষা ও আল্লাহর কুরআন থেকে কখনো বিচ্যুত হব না।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অলি আহমদ বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে মুসলিম লীগ ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালের পর মুসলিম লীগের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কেউ এ দলকে ধ্বংস করেনি। একইভাবে আওয়ামী লীগেরও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর কখনো বাংলাদেশে আসবে না। যারা ভেতরে আছে, তারা গোপনে অন্য দলে ঢুকে সদস্যপদ নিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বরিশালবাসীর জন্য একটি সুখবর আছে। বহুদিন আগে আপনাদের এলাকায় চুরিতে ধরা পড়ে শুভেন্দু জেলখানায় পালিয়ে ছিল। এখন শুভেন্দুকে কলকাতায় পাওয়া গেছে। মাঝেমধ্যে সে বলে, হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবে, প্রবেশ করবে।
তিনি বলেন, আমরা তাদের বলব, হাসিনার জন্য ও তোমার জন্য ফাঁসির রশি ভালো ঘি দিয়ে মালিশ করে প্রস্তুত রাখব। এটা শ্বশুরবাড়িও নয়, বাপের বাড়িও নয়। ফাঁসির রশিতে ঝুলতে চাইলে আসতে পারো।
ভারতে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে এলডিপি সভাপতি বলেন, ভারতে প্রতিনিয়ত মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা এতে কান দেব না। কারণ আমরা নবীর অনুসারী, আল্লাহর কুরআন মেনে চলি। অন্যের ক্ষতি করা আমরা কখনোই বরদাশত করব না।
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অলি আহমদ বলেন, একটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে আমরা ১১ দল একসঙ্গে হয়েছি। অনেকে মনে করেন, আমরা বোধহয় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি। অনেক শিক্ষিত লোকও আমাকে এ প্রশ্ন করেন। দুঃখের বিষয়, তারা লেখাপড়া করেন না।
তিনি বলেন, আমরা কেন একত্রিত হয়েছি? আমরা চাই, এ দেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি বন্ধ হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং মানুষ শান্তিতে ঘরে বসবাস করুক। আজ আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, কয়েক দিন আগে দেখলাম, আপনার কয়েকজন মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ করতে একটি জায়গায় গেছেন। দুঃখের বিষয়, ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের। আর কারা ত্রাণ পাবেন, তা নির্ধারণ করবেন ইউএনও। এটা মন্ত্রীর কাজ নয়।
তিনি বলেন, মন্ত্রী যদি ইউএনওর কাজ করেন, তাহলে ইউএনও কার কাজ করবেন? আপনি আপনার লোকগুলোকে সামাল দিন। এমন লোককে মন্ত্রিসভায় নিয়েছেন, যারা নিজেদের দায়িত্ব কী, সেটাও জানেন না। ভালো খাবার পেলে সেদিকে ছুটে যান। এগুলো বন্ধ করুন।
তিনি আরও বলেন, আপনি একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন করছেন, অন্যদিকে পাঁচ-সাতজন মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণে যাচ্ছেন। নিজের মন্ত্রণালয়ে কী হচ্ছে, তা জানেন না, অথচ ত্রাণ নিয়ে টানাটানি করছেন। আগে নিজের মন্ত্রণালয় চালান।
বিরোধী দলের অবস্থান প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, শুভেন্দু, তোমরা যতই লাফালাফি করো, আমরা সেদিকে কান দেব না। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আমরা যারা বিরোধী দলে আছি, তারা আপনার শত্রু নই। বরং আমরাই আপনার মিত্র। কারণ আমরা একটি সুন্দর দেশ গড়তে চাই। এই বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, এটা আপনাকে বুঝতে হবে।










